সমুদ্রের বাড়তি আগ্রাসন!
পৃথিবী জুড়ে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে—এই সতর্কবার্তা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, পরিস্থিতি হয়তো আগে যা ভাবা হয়েছিল তার থেকেও বেশি উদ্বেগজনক। ইউরোপের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় উঠে এসেছে, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির হিসাব করার পুরনো পদ্ধতিতে বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। ফলে বাস্তবে সমুদ্রের অগ্রগতি অনেক ক্ষেত্রেই কম করে ধরা হয়েছিল।
এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক পত্রিকা Nature-এ। বিজ্ঞানীদের মতে, পূর্ববর্তী হিসাবের তুলনায় সমুদ্রের জলস্তর অনেক জায়গায় গড়ে প্রায় এক ফুট বেশি হতে পারে। কিছু এলাকায় এই বৃদ্ধি তিন ফুট পর্যন্তও পৌঁছেছে।
পুরনো হিসাব কেন ভুল হতে পারে
গবেষকদের মতে, আগে সমুদ্রের উচ্চতা এবং উপকূলের ভূমির উচ্চতা আলাদা আলাদা ভাবে মাপা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে যেখানে সমুদ্র ও স্থলভাগের সংযোগ ঘটে, সেখানে ঢেউ, স্রোত, বাতাস, তাপমাত্রার পরিবর্তনসহ নানা প্রাকৃতিক উপাদান একসঙ্গে কাজ করে।
এই জটিল প্রক্রিয়া স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পুরোপুরি ধরা পড়েনি বলেই আগের গণনায় ভুল থেকে গেছে। নেদারল্যান্ডসের গবেষক Philippe Minderhoud জানিয়েছেন, সমুদ্র ও উপকূলের পারস্পরিক প্রভাব সঠিকভাবে বোঝা না গেলে প্রকৃত জলস্তর নির্ধারণ করা কঠিন।
আরও ৩৭ শতাংশ জমি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা
পুরনো অনুমান অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীর শেষে সমুদ্রের জলস্তর বাড়লে বহু উপকূলবর্তী এলাকা জলের তলায় চলে যেতে পারে। কিন্তু নতুন গবেষণা সঠিক হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, নতুন হিসাব অনুযায়ী উপকূলবর্তী প্রায় ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত জমি সমুদ্র গ্রাস করতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় ৭ থেকে ১৩ কোটি মানুষের জীবন সরাসরি বিপদের মুখে পড়তে পারে।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় সমুদ্রের ধারে জনসংখ্যা বেশি, সেখানে এই ঝুঁকি আরও বড় হয়ে দেখা দেবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিপদের মাত্রা বেশি
গবেষণায় বলা হয়েছে, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি।
এই অঞ্চলগুলিতে উপকূল ঘেঁষে বহু মানুষ বসবাস করেন। ফলে সমুদ্র একটু একটু করে এগিয়ে এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনযাত্রায়। ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন উপকূল এলাকায় সমুদ্রের পানি স্থলভাগে ঢুকে পড়ার ঘটনা বাড়ছে।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপদেশ Vanuatu-এর পরিবেশবিদ Veipaiamale Trief বলেন, এই ধরনের গবেষণা কেবল পরিসংখ্যান নয়—এগুলো বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। তাঁর কথায়, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির কারণে উপকূলের মানুষের জীবন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
সব বিজ্ঞানী কিন্তু একমত নন
তবে নতুন গবেষণার ফলাফল নিয়ে সব বিজ্ঞানী একমত নন। ফরাসি গবেষক Goneri Le Cozannet মনে করেন, এই গবেষণায় বিপদের সম্ভাবনাকে কিছুটা বাড়িয়ে দেখানো হতে পারে। তাঁর মতে, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির সমস্যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশ আগাম পরিকল্পনাও করছে।
মার্কিন সমুদ্রবিজ্ঞানী Robert Kopp-ও বলেন, উপকূলবর্তী দেশগুলির অনেকেই এই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন এবং তার মোকাবিলার কৌশল তৈরি করছে।
তবে বিতর্ক থাকলেও একটি বিষয় পরিষ্কার—জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন বাস্তব এবং তা প্রতিদিনই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে ভবিষ্যতের জন্য আরও নিখুঁত গবেষণা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?