কোটি কোটি বছরের পুরনো মহাজাগতিক জীবাশ্ম উন্মোচন করল আদিম ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য!
যা কিছু সময়ের সঙ্গে বদলায় না, তাই ইতিহাসের পাতায় হয়ে ওঠে জীবন্ত দলিল। এবার ঠিক এমন এক বিরল ছায়াপথ খুঁজে পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যেটি ৭০০ কোটি বছর ধরে প্রায় অবিকৃত অবস্থায় থেকে গেছে মহাশূন্যে। এই ছায়াপথকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘মহাজাগতিক জীবাশ্ম’, যা সম্ভবত আমাদের হাতে তুলে দিতে চলেছে সৃষ্টির আদিকালের বহু অজানা সত্য।
২০১৮ সালে এই ছায়াপথের খোঁজ পান ইউরোপীয় গবেষকেরা। যার নাম দেওয়া হয়েছে— কিড্স জে০৮৪২+০০৫৯। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ। এটি আবিষ্কৃত হয় ‘কিলো ডিগ্রি সার্ভে’ (KiDS) নামের এক বিশেষ মহাকাশ জরিপ প্রকল্পের মাধ্যমে। তখন থেকেই আমেরিকার অ্যারিজোনার ‘লার্জ বাইনোকুলার টেলিস্কোপ’-এ শুরু হয় এর গভীর পর্যবেক্ষণ। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, এই ছায়াপথটি গত সাতশো কোটি বছর ধরে কোনও বিবর্তনের ছাপই বহন করেনি— এটাই একে বাকি গ্যালাক্সিগুলির থেকে আলাদা করে তোলে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, কোটি কোটি বছর ধরে একই রকম থাকা এই ছায়াপথ যেন এক টাইম মেশিন! কারণ, ব্রহ্মাণ্ডের ইতিহাসে এমন ছায়াপথ খুব কমই টিকে থাকে রূপান্তরহীন অবস্থায়। সাধারণত, মহাবিশ্বের ছায়াপথগুলো ক্রমাগত নক্ষত্র সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়। কিন্তু কিড্স জে০৮৪২+০০৫৯ তার ব্যতিক্রম। এটির বিস্তার অন্যান্য সমবয়সী গ্যালাক্সির তুলনায় অনেক কম। এবং এতে নতুন নক্ষত্র সৃষ্টির হারও প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে, এটির গঠন বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের ইতিহাসের এক অনাবিষ্কৃত অধ্যায় উন্মোচিত হতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চিয়ারা স্পিনিয়েলো এবং ইটালির অ্যাস্ট্রোফিজিক্স সংস্থার বিজ্ঞানী ক্রেসেনজো ডাভ উচ্ছ্বাসে জানাচ্ছেন, এটি একটি মহাজাগতিক প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁজ। ডাভের মতে, “এই ছায়াপথ হল মহাবিশ্বের ডায়নোসর। এটিকে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে কী পরিস্থিতিতে প্রাচীন ছায়াপথগুলির জন্ম হয়েছিল এবং কীভাবে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে বর্তমান মহাবিশ্বের বিশাল গঠন।”
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের মহাজাগতিক জীবাশ্ম আমাদের সৃষ্টিতত্ত্ব বুঝতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। বিগ ব্যাং-এর ৭০০ কোটি বছর পরেও যদি কোনও গ্যালাক্সি অপরিবর্তিত থেকে যায়, তবে তা শুধু ব্যতিক্রম নয়, এক অভূতপূর্ব জানলার মতো, যেখান থেকে দেখা যায় ইতিহাসের অতল গহ্বর।
এই তালিকায় রয়েছে আরও একটি পরিচিত জীবাশ্ম গ্যালাক্সি— এনজিসি ১২৭৭, যেটি পৃথিবী থেকে মাত্র ২৪ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। এগুলির মতো মহাজাগতিক টাইম ক্যাপসুলে উঁকি দিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হয়তো একদিন খুঁজে পাবেন, আমাদের অস্তিত্বের সেই প্রথম বিন্দু কোথায় ছিল।
বৃষ্টির দিনে ঘন ঘন লোডশেডিং? খাবার নষ্ট হওয়ার আগে অবলম্বন করুন এই সহজ কৌশলগুলি