ভারতের বিরুদ্ধে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পাকিস্তান!
পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে সামরিক শক্তিতে পেরে না ওঠায় এখন ডিজিটাল যুদ্ধের পথে হাঁটছে ইসলামাবাদ। আর সেই লড়াইয়ের নতুন হাতিয়ার—ভুয়ো খবর! ভারতীয়দের বিভ্রান্ত করতে একের পর এক মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে চলেছে পাকিস্তান, যা আটকাতে তৎপর হয়েছে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র ফ্যাক্ট চেক শাখা।
গত কয়েক দিন ধরেই জম্মু ও পঞ্জাব সীমান্তে পাকিস্তানের তরফে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়, কিন্তু ভারতের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ সেগুলি আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। পাল্টা জবাবে পাকিস্তানের একাধিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও জানা গেছে। কিন্তু সরাসরি লড়াইয়ের পাশাপাশি পাকিস্তান ঝুঁকেছে তথ্য যুদ্ধে। লক্ষ্য—ভারতের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা, সমাজমাধ্যমে মিথ্যে বার্তা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো।
PIB জানায়, ৮ মে রাত ১০টা থেকে ৯ মে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বহু ভাইরাল ভিডিয়ো ও পোস্ট পরীক্ষা করে দেখা যায়—সেগুলি অধিকাংশই ভুয়ো।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জলন্ধরে ড্রোন হামলার খবর দিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়ো আসলে সম্পূর্ণ মিথ্যে ছিল। জলন্ধরের ডেপুটি কমিশনার নিজে সেই খবর খণ্ডন করেছেন। আবার, আর একটি ভিডিয়োয় দাবি করা হয় ‘২০ রাজ ব্যাটালিয়ন’ পরিচালিত সেনাছাউনিতে হামলা হয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এমন কোনও ইউনিট ভারতীয় সেনায় আদৌ নেই!
অন্য একটি ভাইরাল ক্লিপ ছিল ২০২০ সালের বেইরুট বিস্ফোরণের—যা পাকিস্তানের হামলা বলে চালানো হচ্ছিল। PIB স্পষ্ট জানায়, ওই ক্লিপ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কহীন। আরও একটি খবর ছড়ানো হয়, রাজৌরির সেনাব্রিগেডে আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। কিন্তু সেটিও ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। উদ্দেশ্য একটাই—ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে ভারতীয়দের মধ্যে গুজবের আগুন ছড়ানো।
সমাজমাধ্যমে আরও একটি চিঠি ভাইরাল হয়, যাতে এক ‘সেনাকর্তা’র নামে নানা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। PIB নিশ্চিত করেছে, ওই নামে সেনাবাহিনীতে কেউ নেই এবং চিঠিটিও জাল। আবার বিমানবন্দরে প্রবেশে নাকি সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে—এই খবরও ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল গুজরাতের হাজিরা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর। সেই সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি ছিল ২০২১ সালে একটি তেলের ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণের ঘটনা।
এভাবে একের পর এক মিথ্যে খবর ছড়িয়ে পাকিস্তান চেষ্টা করছে ভারতের ভেতরে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক তৈরির। এসব খবরের অধিকাংশই ছড়ানো হচ্ছে পাকিস্তানি হ্যান্ডেল ও অ্যাকাউন্ট থেকে।
ফলে ভারতের ফ্যাক্ট চেক বিভাগ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে—”অবিশ্বাস্য বা চমকে দেওয়ার মতো কোনও খবর চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করুন। চোখ-কান খোলা রাখুন, গুজবকে না বলুন।”
‘ব্রহ্মস’ নয়, কেন ‘হাতুড়ি’র ঘা? অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ ভারত বেছে নিল স্ক্যাল্প ও হ্যামার, কারণ জানেন?