‘ব্যান’ বিতর্কে কৃতজ্ঞ ঋদ্ধি, নিরাপত্তাই এখন প্রথম শর্ত!
টলিউডের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যেন একসঙ্গে বহু আবেগ, ক্ষোভ এবং প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। অভিনেতা Riddhi Sen নিজেই জানিয়েছেন, তিনি এমন এক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন, যা একদিকে বেদনাদায়ক, আবার অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা।
অভিনেতা Rahul Arunoday Banerjee-এর মর্মান্তিক মৃত্যু যেন গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঋদ্ধির কথায়, “এইভাবে এক হওয়ার প্রয়োজন অনেক দিন ধরেই ছিল, কিন্তু এমন একটি ঘটনার বিনিময়ে তা হোক— সেটা কেউই চাইনি।” তিনি মনে করেন, রাহুলকে যাঁরা কাছ থেকে চিনতেন, তাঁদের পক্ষে এই ঘটনা ভোলা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় অনুষ্ঠিত বৈঠক ছিল সেই পরিবর্তনের সূচনা। ঋদ্ধি বিশেষভাবে কৃতিত্ব দিয়েছেন রাহুলের স্ত্রী Priyanka Sarkar-কে। তাঁর মতে, প্রিয়াঙ্কার লড়াইই সবাইকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসেছে। এত দিন নানা প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে চুপ করে থাকার যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, সেই চক্র ভাঙতেই এই ঐক্য জরুরি ছিল।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুখ— Prosenjit Chatterjee, Dev-সহ অনেকেই। ঋদ্ধির ভাষায়, “আমরা যেভাবে রাহুলদাকে হারিয়েছি, আর যেন কাউকে না হারাতে হয়— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।”
এই বৈঠকে শুধু নিরাপত্তা নয়, ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যাও উঠে আসে। তার মধ্যে অন্যতম ‘ব্যান’ বা শিল্পীদের নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি। ঋদ্ধি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার শিকার। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যাকে তিনি ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
বরং তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ— এই আলোচনা যে শুরু হয়েছে, সেটাই। “এই ভয়াবহ ঘটনার মাঝেও শিল্পীদের ‘নিষিদ্ধ’ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ,”— বলেন ঋদ্ধি। তাঁর মতে, এত দিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে।
তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তগুলো কোনও একক ব্যক্তির নয়, বরং সম্মিলিত আলোচনার ফল। ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন স্তরে যে ফাটল তৈরি হয়েছিল— তা সে নিরাপত্তা হোক বা কাজের পরিবেশ— সবই একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ঋদ্ধি স্পষ্ট করে দেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় ‘ব্যান’ নয়, বরং নিরাপত্তা। “রাহুলদার মৃত্যু এখনও আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য। সেখানে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,”— তাঁর সোজাসাপ্টা বক্তব্য।
সবশেষে, তিনি আবারও উল্লেখ করেন প্রিয়াঙ্কার ভূমিকার কথা। তাঁর লড়াই এবং Prosenjit Chatterjee-র উদ্যোগ না থাকলে এত বড় ঐক্য সম্ভব হত না বলেই মনে করেন ঋদ্ধি।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাপ্রবাহ টলিউডে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে— যেখানে শিল্পীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সম্মান— সবকিছুকেই নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না