স্কুল ব্যাগে ভর করে ইরানের ফুটবলারদের প্রতিবাদ!
ফুটবল মাঠে সাধারণত দেখা যায় প্রতিযোগিতা, আবেগ আর উদযাপন। কিন্তু এবার সেই মাঠই হয়ে উঠল শোক আর প্রতিবাদের মঞ্চ। Iran national football team-এর ফুটবলাররা জাতীয় সঙ্গীতের সময় হাতে তুলে নিলেন স্কুল ব্যাগ—নীরব শ্রদ্ধা জানাতে নিহত পড়ুয়াদের।
সম্প্রতি Iran-এ চলা সামরিক সংঘাত পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, United States এবং Israel যৌথভাবে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপরও। ইরানের দাবি, শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, অসামরিক এলাকাও এই হামলার শিকার হচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে স্কুল ও হাসপাতাল।
সংঘাতের শুরুতেই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা সামনে আসে। সেই ঘটনায় শিক্ষক-সহ বহু পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই নিজেদের মতো করে প্রতিবাদ জানালেন ইরানের ফুটবলাররা।
একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের হাতে ছিল একটি করে স্কুল ব্যাগ। এই প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন—যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় নিরপরাধ শিশুদের। শুধু তাই নয়, ম্যাচ চলাকালীন তাঁরা কালো বাহুবন্ধনীও পরেছিলেন, যা শোকের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে অভিযোগ করেছেন যে, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।
সংঘাতের প্রভাব শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জানা গেছে, ভবিষ্যতে FIFA World Cup-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিয়েও ভাবছে ইরান, বিশেষ করে যেসব দেশকে তারা ‘শত্রু’ মনে করছে, সেখানে খেলতে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের ফুটবলারদের এই উদ্যোগ শুধু একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়—এটি এক শক্তিশালী বার্তা। খেলার মাঠেও যে মানবিকতা, প্রতিবাদ এবং সহমর্মিতা জায়গা পায়, তা আবারও প্রমাণ করলেন তাঁরা।
শেষ পর্যন্ত, গোল বা জয় নয়—এই দিন ফুটবল মাঠে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কয়েকটি সাধারণ স্কুল ব্যাগ, যা মনে করিয়ে দিল যুদ্ধের ভয়াবহতা আর হারিয়ে যাওয়া শৈশবের গল্প।