ভারতের চাল আমদানিতে নতুন চাপানউতোর, ঘরোয়া অসন্তোষ থামাতেই কি ট্রাম্পের কড়া ইঙ্গিত
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম লাগাতার বাড়ছে। কৃষকদের ক্ষোভও দিনে দিনে তীব্র হচ্ছে। বিদেশ থেকে ভর্তুকিযুক্ত কৃষিজ পণ্য আমদানির ফলে দেশীয় উৎপাদকেরা বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না— এমন অভিযোগও বার বার উঠছে। এই আবহেই ফের ভারতের বিরুদ্ধে বাড়তি শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো রয়েছে। সে হারেরও বৃদ্ধি হতে পারে বলে জানালেন তিনি।
শুধু ভারত নয়— কানাডা থেকেও আমদানি হওয়া সার নিয়েও তিনি ক্ষুব্ধ। দু’দেশ থেকেই আমদানি হওয়া পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প।
🔸 ক্ষুব্ধ কৃষক, চাপে হোয়াইট হাউস
বিগত কয়েক মাস ধরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে আমেরিকার জনমানসে অসন্তোষ বাড়ছিল। বিশেষত চালের বাজার নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ ছিল বিস্তর—
- কম দামে বিদেশি চাল আমদানি,
- দেশীয় উৎপাদকের প্রতিযোগিতা শক্তি কমে যাওয়া,
- মজুত থাকা চাল বিক্রি না হওয়া।
এই সমস্ত উদ্বেগের জেরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল রিপাবলিকান নেতৃত্বের উপরও। সেই কারণেই সোমবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে কৃষকদের আর্থিক সহায়তার বড় ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেখানেই উঠে আসে ভারত-থাইল্যান্ড-চিন থেকে চাল আমদানির প্রসঙ্গ।
লুইসিয়ানার কেনেডি রাইস মিলের প্রধান মেরিল কেনেডি অভিযোগ করেন, বিদেশি চাল, বিশেষত ভারতীয় চাল বাজারে ঢুকে পড়ায় মার্কিন উৎপাদকদের সংকট চরম। তাঁর বক্তব্য, “বর্তমান শুল্ক কোনও কাজে আসছে না। এই হার অন্তত দ্বিগুণ করা উচিত।” সেই সুপারিশেই সায় দেন ট্রাম্প।
🔸 ভারতকে নিশানা করে ট্রাম্পের মন্তব্য
প্রেসিডেন্টের দাবি ছিল স্পষ্ট—
“ভারত থেকে চাল এনে আমেরিকায় ডাম্পিং চলতে দেওয়া হবে না। এটা আমি বহু জায়গায় শুনেছি। প্রয়োজন হলে কড়া ব্যবস্থা নেব।”
ভারতের উপর যে আরও শুল্ক চাপানো হতে পারে, তা তাঁর কথাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি কানাডার উপরও চাপ বাড়তে পারে। কারণ আমেরিকায় ব্যবহৃত সারের বড় অংশই আমদানি হয় সেখান থেকে।
ট্রাম্প বলেন—
“যদি প্রয়োজন হয়, কানাডার সারের উপরও শক্তিশালী শুল্ক বসানো হবে।”
🔸 দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা
বর্তমানে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার একাধিক দফা চলছে। সম্পর্কও তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে ভারতের চাল আমদানিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারি সেই আলোচনায় নতুন জটিলতা আনতে পারে।
এখনও পর্যন্ত ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত—
- প্রথম ধাপে ২৫%
- রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ‘শাস্তিমূলক’ আরও ২৫%
এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হলে ভারতের কৃষিজাত পণ্যের আমেরিকায় প্রবেশাধিকার আরও সঙ্কুচিত হবে।
🔸 সামনে কী আসতে পারে?
চলতি সপ্তাহেই আমেরিকার প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে বাণিজ্য আলোচনার জন্য। সেখানে চাল আমদানি ও শুল্ক নিয়েই তর্ক-বিতর্ক উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে—
দেশীয় কৃষকদের রাজনৈতিক ক্ষোভ প্রশমিত করাই এখন তাদের প্রথম লক্ষ্য।
সেই উদ্দেশ্যে কোমর বাঁধছে হোয়াইট হাউস— আর তার চাপ সর