শুভেন্দু সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ: কারা পেলেন মন্ত্রিত্ব, কী তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়?

শুভেন্দু সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ! পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে একসঙ্গে ৩৫ জন নতুন মুখ শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং…

June 2, 2026
1 min read

শুভেন্দু সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ!

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে একসঙ্গে ৩৫ জন নতুন মুখ শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী। ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪১। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা স্পষ্ট এই তালিকায়।

১৩ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে কারা?

তাপস রায় (মানিকতলা)

ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা তাপস রায় কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বিজেপি— তিন রাজনৈতিক অধ্যায় পার করেছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মনোজ ওরাওঁ (কুমারগ্রাম)

উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সমাজের তরুণ প্রতিনিধি। আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে বিজেপির প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

অর্জুন সিংহ (নোয়াপাড়া)

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা। হিন্দিভাষী ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

গৌরীশঙ্কর ঘোষ (মুর্শিদাবাদ)

দলের পুরনো কর্মী এবং মুর্শিদাবাদে বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলার অন্যতম মুখ।

দীপক বর্মণ (ফালাকাটা)

সংগঠনের পরীক্ষিত নেতা। আরএসএস-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।

ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (বিধাননগর)

বিশিষ্ট চিকিৎসক। পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মুখ।

অরূপকুমার দাস (কাঁথি দক্ষিণ)

পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জেলার একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী।

স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী)

প্রাক্তন সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী। জাতীয় স্তরে বিজেপির অন্যতম ‘সুশীল মুখ’ হিসেবে পরিচিত।

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি)

সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসা নেতা। আরএসএস-ঘনিষ্ঠ এবং সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।

কল্যাণ চক্রবর্তী (খড়দহ)

কৃষিবিজ্ঞানী ও গবেষক। শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী মুখ।

শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি)

প্রাক্তন সিপিএম নেতা। উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অজয় পোদ্দার (কুলটি)

পশ্চিম বর্ধমানের অবাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

দুধকুমার মণ্ডল (ময়ূরেশ্বর)

রামমন্দির আন্দোলনের সময় থেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। বীরভূমে দলের অন্যতম পুরনো মুখ।


স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী

মালতি রাভা রায় (তুফানগঞ্জ)

রাজবংশী সমাজের অন্যতম পরিচিত মহিলা নেতা। কোচবিহারে বিজেপির পুরনো সংগঠক।

রাজেশ মাহাতো (গোপীবল্লভপুর)

কুড়মি আন্দোলনের অন্যতম মুখ। জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ (বেহালা পশ্চিম)

তরুণ চিকিৎসক ও বিজেপি যুবমোর্চার রাজ্য সভাপতি। যুবসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুখ

অশোক দিন্ডা (ময়না)

ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন পেসার। খেলাধুলার জগত থেকে রাজনীতিতে এসে দ্রুত প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।

কৌশিক চৌধুরী (রায়গঞ্জ)

প্রথমবার বিধায়ক হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

জুয়েল মুর্মু (হবিবপুর)

আদিবাসী সমাজের পরিচিত মুখ এবং বহুদিনের সংগঠক।

হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক)

চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক। পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির শক্তিশালী মুখ।

শান্তনু প্রামাণিক (ভগবানপুর)

শিক্ষক পেশা থেকে রাজনীতিতে। ধারাবাহিক সাংগঠনিক কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন।

মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র (বর্ধমান দক্ষিণ)

আইনজীবী ও শিক্ষিত মহিলা নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

উমেশ রাই (হাওড়া উত্তর)

হাওড়ার হিন্দিভাষী ভোটারদের মধ্যে প্রভাবশালী।

পূর্ণিমা চক্রবর্তী (শ্যামপুকুর)

কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়ী হয়ে নজর কেড়েছেন।

ভাস্কর ভট্টাচার্য (শ্রীরামপুর)

আইনজীবী এবং দীর্ঘদিনের সংগঠক।

দিবাকর ঘরামি (সোনামুখী)

বাঁকুড়ায় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি (পারা)

তফসিলি ও আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি।

গার্গী দাস ঘোষ (কান্দি)

প্রথমবার বিধায়ক হয়েই মন্ত্রিত্ব। রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা মুখ।

অমিয় কিস্কু (নয়াগ্রাম)

জঙ্গলমহলের আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি।

কলিতা মাজি (আউশগ্রাম)

গৃহ পরিচারিকা থেকে মন্ত্রী— এই মন্ত্রিসভার অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প।

বিরাজ বিশ্বাস (করণদিঘি)

রাজ্যের কনিষ্ঠতম বিধায়ক ও মন্ত্রিসভার সবচেয়ে তরুণ সদস্য।

সুমনা সরকার (বলাগড়)

তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

আনন্দময় বর্মণ (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি)

উত্তরবঙ্গে বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী রাজবংশী মুখ।

বিশাল লামা (কালচিনি)

ডুয়ার্স অঞ্চলের প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা।

দীপঙ্কর জানা (কাকদ্বীপ)

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপির অন্যতম পরিচিত সংগঠক।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কী বার্তা?

এই সম্প্রসারণে বিজেপি স্পষ্টভাবে আঞ্চলিক ভারসাম্য, আদিবাসী-রাজবংশী-তফসিলি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব, নারী নেতৃত্ব, তরুণ মুখ এবং বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে ‘আদি বিজেপি’ কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দল থেকে আসা প্রভাবশালী নেতাদেরও পুরস্কৃত করা হয়েছে। ফলে এই মন্ত্রিসভা শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক বার্তার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *