শিরগাঁও যাত্রায় ভয়াবহ ট্র্যাজেডি!
গোয়ার শিরগাঁও গ্রাম— যেখানে প্রতি বছর লাইরাই দেবীর মহাযাত্রা উপলক্ষে জড়ো হন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। শতাব্দীপ্রাচীন এই ধর্মীয় উৎসব এবার পরিণত হল এক মর্মান্তিক ঘটনায়। শুক্রবার গভীর রাতে মন্দির চত্বরে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের, আহত হয়েছেন ৫০-এরও বেশি।
শুক্রবার রাতে যখন শিরগাঁও মন্দিরে শুরু হয়েছিল বার্ষিক শোভাযাত্রা, তখন কেউ ভাবতেও পারেননি এমন কিছু ঘটতে পারে। হাজার হাজার মানুষ ধর্মীয় আবেগে ভরে গিয়েছিলেন লাইরাই দেবীর আরাধনায়। কিন্তু রাত গভীর হতেই সেই ভক্তির আবহে ছায়া ফেলে মৃত্যু ও আতঙ্ক। ভোরের দিকে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যেখানে ভিড় একে অপরের উপর ধাক্কা দিতে শুরু করে। কিছু মানুষ মাটিতে পড়ে যান, এবং তারা আর উঠতে পারেননি।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, একাংশ ভক্ত আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারান। কেউ কেউ হুড়োহুড়ি শুরু করেন মন্দিরের মূল দরজার দিকে যেতে গিয়ে। হঠাৎ সেই আতঙ্ক পুরো জমায়েতে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় মানুষ ও মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকেরা। তবে তা যথেষ্ট ছিল না।
পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। উত্তর গোয়ার পুলিশ সুপার অক্ষত কৌশল সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শিরগাঁওয়ের লাইরাই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় শনিবার ভোরেই ঘটেছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
ঐতিহ্যের ভার, কিন্তু কোথায় প্রস্তুতি?
‘শিরগাঁও যাত্রা’ শুধু গোয়ার জন্য নয়, দেশের বহু প্রান্ত থেকে ভক্তরা এই যাত্রায় অংশ নিতে আসেন। এক বিশেষ আচার হিসেবে পুণ্যার্থীরা খালি পায়ে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর দিয়ে হাঁটেন। ধর্মীয় আবেগের কাছে যেমন থাকে আত্মসমর্পণ, তেমনই প্রয়োজন থাকে সঠিক নিরাপত্তা ও সংগঠনের।
অভিযোগ উঠেছে, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন এই বিশাল জমায়েত সামলাতে প্রস্তুত ছিল না। ছিল না পর্যাপ্ত পুলিশ বা ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ঘটনার পর গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
প্রশ্ন উঠছে
এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুরক্ষার বিষয়টি এখনও কতটা উপেক্ষিত। কয়েক মুহূর্তের গাফিলতি কেড়ে নিল ছ’টি তাজা প্রাণ, আহত করল বহু মানুষকে।
লাইরাই দেবীর আশীর্বাদে বিশ্বাস রেখে যাত্রা শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষ হল চোখের জলে। গোয়া আজ শোকস্তব্ধ। প্রশ্ন শুধু একটাই— এই মর্মান্তিক পরিণতি কি এড়ানো যেত না?
কাশ্মীরে টানা ৮ দিন সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন, পাঁচ জায়গায় গুলি পাক সেনার! পাল্টা জবাব দিল ভারতীয় সেনাও