শিরগাঁও যাত্রায় বিষাদের ছায়া, লাইরাই মন্দিরে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু অন্তত ছ’জনের

শিরগাঁও যাত্রায় বিষাদের ছায়া! শতাব্দীপ্রাচীন বিশ্বাস আর ভক্তির টানে হাজার হাজার মানুষের পদচারণে সরগরম হয়ে উঠেছিল গোয়ার শিরগাঁও। লাইরাই দেবীর মন্দিরে বার্ষিক শোভাযাত্রা উপলক্ষে জড়ো হয়েছিল এক বিশাল জনস্রোত। কিন্তু…

May 3, 2025
0 min read

শিরগাঁও যাত্রায় বিষাদের ছায়া!

শতাব্দীপ্রাচীন বিশ্বাস আর ভক্তির টানে হাজার হাজার মানুষের পদচারণে সরগরম হয়ে উঠেছিল গোয়ার শিরগাঁও। লাইরাই দেবীর মন্দিরে বার্ষিক শোভাযাত্রা উপলক্ষে জড়ো হয়েছিল এক বিশাল জনস্রোত। কিন্তু সেই উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল বিভীষিকায়। শুক্রবার রাতের জমায়েতে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন অন্তত ছ’জন, আহত হলেন আরও পঞ্চাশের বেশি মানুষ।

লাইরাই দেবীর বার্ষিক যাত্রা গোয়ার শিরগাঁও গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রতি বছর এই শোভাযাত্রায় হাজার হাজার ভক্ত উপস্থিত হন। একে ‘শিরগাঁও যাত্রা’ নামেও ডাকা হয়। এই যাত্রার মূল আকর্ষণ— খালি পায়ে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর দিয়ে হাঁটার রীতি, যা বহু বছর ধরেই চলে আসছে। বহু মানুষ এই যাত্রায় অংশ নিয়ে নিজেদের বিশ্বাস ও ভক্তি প্রকাশ করেন।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

শুক্রবার গভীর রাতে মন্দির চত্বরে জমায়েত হয়েছিল বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোররাতে আচমকাই এক অংশের মানুষ হুড়োহুড়ি শুরু করেন। পরিস্থিতি মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অনেকে ভিড়ের চাপে মাটিতে পড়ে যান, আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি। তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য

উত্তর গোয়ার পুলিশ সুপার অক্ষত কৌশল সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানান, এখন পর্যন্ত ছ’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ভোরে লাইরাই মন্দিরে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। স্থানীয় মানুষ ও মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকেরাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি?

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় জমায়েত সামলানোর জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের তরফে কোনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশের উপস্থিতি খুবই সীমিত ছিল বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। ঘটনার পরেই মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ন্ত এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান তিনি এবং তাঁদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উৎসবের আনন্দে ভাঙন

শিরগাঁও যাত্রা, যেখানে ভক্তি আর আত্মত্যাগের এক মিশ্র অভিব্যক্তি থাকে, সেই পবিত্র আয়োজনেই এবার ছায়া ফেলল মৃত্যুর কালো মেঘ। যে যাত্রায় মানুষ আসে শক্তি আর শুদ্ধির আশায়, সেখানেই হারাল ছয়টি প্রাণ। গোটা গোয়া এখন শোকস্তব্ধ। উৎসবের রঙ ফিকে হয়ে গেছে শোক আর অনুশোচনায়। প্রশ্ন উঠছে— এই ধরনের বৃহৎ জমায়েতে কি প্রশাসনিক তৎপরতা আরও দৃঢ় হওয়া উচিত নয়?

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেবল শোক নয়, প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকেও বড় এক প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। নিছক একটি দুর্ঘটনা না হয়ে, এটি যেন না হয়ে ওঠে একটি সতর্কবার্তা— ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য।

কাশ্মীরে টানা ৮ দিন সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন, পাঁচ জায়গায় গুলি পাক সেনার! পাল্টা জবাব দিল ভারতীয় সেনাও

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *