শিক্ষার নামে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ? চিনা ছাত্রদের দেশছাড়া করছে যুক্তরাষ্ট্র!

শিক্ষার নামে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ? শিক্ষা অর্জনের স্বপ্নে বিদেশ যাওয়া বহু চিনা শিক্ষার্থীর কাছে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসনের হঠাৎ সিদ্ধান্তে ছিন্নভিন্ন হতে বসেছে তাঁদের ভবিষ্যৎ। উচ্চশিক্ষার মোড়কে গুপ্তচরবৃত্তি ও…

May 30, 2025
1 min read

শিক্ষার নামে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ?

শিক্ষা অর্জনের স্বপ্নে বিদেশ যাওয়া বহু চিনা শিক্ষার্থীর কাছে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসনের হঠাৎ সিদ্ধান্তে ছিন্নভিন্ন হতে বসেছে তাঁদের ভবিষ্যৎ। উচ্চশিক্ষার মোড়কে গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগ তুলে চিনা ছাত্রছাত্রীদের বিপুল সংখ্যায় ভিসা বাতিলের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।

২০২৫ সালের ২৮ মে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, চিনা শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণাত্মকভাবে ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে। যুক্তি, এঁদের অনেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁদের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

রুবিওর মতে, CPC-র সঙ্গে ন্যূনতম যোগাযোগ থাকলেই মার্কিন মাটিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিলবে না। অথচ চিনে একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি হচ্ছে CPC। ফলে বাস্তবে প্রায় সব চিনা ছাত্রছাত্রীর উপরই এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। এক্স প্ল্যাটফর্মে চিনা শিক্ষার্থীদের অনেকেই হতাশ হয়ে লিখেছেন—”সুদিন শেষ।”

মার্কিন প্রশাসনের এই কড়াকড়ি শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং একটি বড় কূটনৈতিক বার্তাও। ট্রাম্প সরকারের সন্দেহ, বহু চিনা ছাত্র প্রযুক্তি গবেষণার ছদ্মবেশে আসলে তথ্য পাচার এবং গুপ্তচরবৃত্তির কাজে লিপ্ত। অভিযোগ, এঁদের অনেকেই চিনের সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় গোপন সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং বাধ্যতামূলকভাবে দেশের সরকারের নির্দেশ মানতে হয় তাঁদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, মার্কিন শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ধাক্কা দিতে পারে। কারণ বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও গবেষণার তহবিল থেকে বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার আয় করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ২০২৩ সালে শুধু চিনা শিক্ষার্থীদের থেকেই এই আয় ছিল ৫০০০ কোটি ডলারের বেশি।

এছাড়া উচ্চপ্রযুক্তির গবেষণায় চিনা ছাত্রদের অবদান অনেক। তাঁদের হঠাৎ ফিরিয়ে দিলে বহু চলমান প্রকল্প থেমে যেতে পারে। এই ক্ষতির কথা বলেই ট্রাম্প সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন অনেক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ।

হার্ভার্ডসহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি ছাত্র ভর্তিতে কঠোর নির্দেশিকা আরোপ করা হয়েছে, যা আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত। তবে বিদেশসচিব রুবিওর সাম্প্রতিক ঘোষণা পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, একসময় ট্রাম্প চিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। সেই যুদ্ধ শেষে শান্তি ফিরতে না ফিরতেই এবার নতুনভাবে উত্তেজনা ছড়াল উচ্চশিক্ষার ময়দানে। কূটনীতির আড়ালে এই ‘ভিসা যুদ্ধ’ বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বড় মোড় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীরাও আমেরিকা ছেড়ে ইউরোপ বা জাপানের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলেই ধারণা। ফলে গ্লোবাল হায়ার এডুকেশনের মানচিত্রেও আসতে পারে বড়সড় পরিবর্তন।

আম খাওয়ার সেরা সময় এবং কীভাবে খেলে ওজন বা শর্করা বাড়বে না!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *