শারীরিক ফুটবলের মাঝেও মাথা ঠান্ডা রেখেছে ফ্রান্স, এমবাপেদের প্রশংসায় দেশঁ!
বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল ফ্রান্সকে। দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের শারীরিক ও রক্ষণাত্মক ফুটবলের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে কিলিয়ান এমবাপেদের। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের খেলার ধরন এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ।
তবে সবচেয়ে বেশি খুশি তিনি নিজের দলের মানসিকতা দেখে। কঠিন পরিস্থিতিতেও ফুটবলারেরা ধৈর্য হারাননি বলেই মনে করেন দেশঁ।
তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের পরিকল্পনায় অটল ছিলাম। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল। প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা সব সময় বলের আশপাশে ছিল এবং ওদের রক্ষণ ছিল অসাধারণ। এই গরমে দ্রুতগতির ফুটবল খেলা সহজ নয়, তবু আমাদের ফুটবলারেরা চাপ ধরে রাখতে পেরেছে। শুধু চাপ তৈরি করলেই ম্যাচ জেতা যায় না, কিন্তু সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আমাদের কাজে লাগবে।”
দেশঁর মতে, এই ম্যাচ তাঁর দলের অনেক তরুণ ফুটবলারের জন্য বড় শিক্ষা।
তিনি বলেন, “আমাদের কয়েক জন প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলছে। এর আগেও সহজ ম্যাচ পাইনি, তবে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে একেবারে অন্য ধরনের লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে।”
প্যারাগুয়ের শারীরিক ফুটবল নিয়েও সরব হয়েছেন ফরাসি কোচ।
তাঁর কথায়, “ওরা জেতার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করেছে। এত আগ্রাসী ফুটবল অনেক সময় সীমা ছাড়িয়ে যায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, দর্শকেরা এই ধরনের ফুটবল দেখতে মাঠে আসেন না।”
রেফারির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন দেশঁ। যদিও সরাসরি সমালোচনা করতে চাননি।
তিনি বলেন, “আমাদের তিন জন ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেছে। কিন্তু মাঠে আরও অনেক কিছু ঘটেছে। আমি রেফারির সমালোচনা করতে চাই না, আবার প্যারাগুয়েরও নয়। প্রত্যেক দলের নিজেদের কৌশলে খেলার অধিকার আছে। তবে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেই ভালো হতো। শেষ পর্যন্ত বড় কোনও সমস্যা হয়নি, সেটাই স্বস্তির।”
এখন ফ্রান্সের সামনে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো। আফ্রিকার শক্তিশালী দলটিকে যথেষ্ট সমীহ করছেন দেশঁ।
তিনি বলেন, “মরক্কো এই প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা দল। চার বছর আগেও ওদের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম। ওরা আফ্রিকান নেশনস কাপের চ্যাম্পিয়ন। আমাদের কয়েক জন ফুটবলার ক্লান্ত, কারও কারও সামান্য চোটও রয়েছে। প্রস্তুতির জন্য কয়েক দিন সময় পাব। সেই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের তৈরি করতে হবে।”
প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয় ফ্রান্সকে আত্মবিশ্বাস দিলেও, দেশঁ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে মরক্কোর বিরুদ্ধে লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?