শান্তির দাবিদার ট্রাম্প? ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিতর্কে ঘি ঢাললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

শান্তির দাবিদার ট্রাম্প? পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ফের চর্চায় ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি দাবি করলেন, ‌ইরান এবং ইজ়রায়েল—দু’দেশই নাকি তাঁর কাছে এসে শান্তি চেয়েছে। তবে এই ঘোষণার ঠিক আগেই…

June 24, 2025
1 min read

শান্তির দাবিদার ট্রাম্প?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ফের চর্চায় ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি দাবি করলেন, ‌ইরান এবং ইজ়রায়েল—দু’দেশই নাকি তাঁর কাছে এসে শান্তি চেয়েছে। তবে এই ঘোষণার ঠিক আগেই ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত দাবিকে প্রকাশ্যে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

গত সোমবার রাত ৩টা নাগাদ (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) এক সমাজমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ইরান ও ইজ়রায়েল দু’পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ৬ ঘণ্টার মধ্যে সংঘর্ষ সম্পূর্ণ থেমে যাবে।” তিনি আরও জানান, “প্রথমে ইরান হামলা বন্ধ করবে এবং ১২ ঘণ্টা পরে তা অনুসরণ করবে ইজ়রায়েল। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হবে।”

কিন্তু তাঁর ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পরেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানান, ইরান কোনও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়নি। তাঁর মতে, ইজ়রায়েল যদি হামলা বন্ধ করে, তবে ইরানও নতুন করে সংঘর্ষে জড়াতে চায় না। তবে যুদ্ধ থামানো নিয়ে কোনও সরকারিভাবে চুক্তি হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি।

এই প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবার সকালে ফের একটি নতুন পোস্ট করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, “‌ইরান এবং ইজ়রায়েল দু’জনেই আমার কাছে এসে বলেছে তারা শান্তি চায়। এটা শুধু আমার জয়ের বিষয় নয়, বরং পশ্চিম এশিয়া এবং গোটা বিশ্বের জয়।” সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তারা অনেক কিছু পেয়েছে, তবে যদি সত্য এবং ধর্মের পথ থেকে সরে যায়, অনেক কিছু হারাতেও পারে।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে কূটনৈতিক মহল। একদিকে যুদ্ধ থামানোর জন্য নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষেরই কেউ তাঁর দাবিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। ইরানি সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্র ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘অসত্য’ বলেও দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক শান্তির বার্তা ছড়িয়ে ট্রাম্প নিজের ভাবমূর্তি মেরামত করতে চাইছেন। যদিও ইরান বা ইজ়রায়েল—কোনও পক্ষ থেকেই তাঁর সেই প্রচেষ্টার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।

তবে পশ্চিম এশিয়ায় যদি সত্যিই কোনও শান্তি চুক্তি হয়, তাহলে তা শুধু রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক ও মানবিক দিক থেকেও এক ঐতিহাসিক পরিণতি হতে পারে। আপাতত, ট্রাম্পের ঘোষণার ভবিষ্যৎ ফলই বলে দেবে, বাস্তবে শান্তির আলো জ্বলবে, নাকি এই ‘শান্তির বার্তা’ শুধু রাজনৈতিক ঢাকঢোলই থেকে যাবে।

৩৫ হাজার ফুটে ও আরামেই ভেসে থাকুন! দীর্ঘ উড়ানে আরাম পাওয়ার ৭টি সহজ টিপস

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *