স্বাচ্ছন্দ্য, স্টাইল আর বারো হাতের শাড়ি চিরন্তন মায়া!
সরস্বতী পুজো এলেই শাড়ির কথা মনে পড়ে। অথচ আজকের ব্যস্ত জীবনে এই বারো হাতের পোশাক যেন একটু পিছনের সারিতে। সময় নেই, ঝামেলা বেশি, মানায় না— এমন হাজারো যুক্তি তুলে আমরা অনেকেই শাড়িকে এড়িয়ে চলি। কিন্তু সত্যিই কি শাড়ি আধুনিক জীবনের সঙ্গে বেমানান? নাকি আমরা নিজেরাই তাকে নতুন করে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছি না?
শাড়ি মানেই শুধুই উৎসবের সাজ— এই ধারণা ভেঙে ফেলাই দরকার। শাড়ি আসলে আরামের, স্বাধীনতার, আর ব্যক্তিগত স্টাইলের পোশাক। রান্নাঘর থেকে অফিস, কলেজের স্টাফরুম থেকে কর্পোরেট মিটিং, পুজোর অঞ্জলি থেকে মঞ্চের আলো— সর্বত্রই শাড়ির স্বাভাবিক যাতায়াত। কখনও সে আটপৌরে, কখনও লাস্যময়, আবার কখনও চরম আধুনিক। এই বহুমুখিতাই শাড়ির আসল শক্তি।
এক সময় বিয়ে, পুজো বা স্কুলের অনুষ্ঠানে শাড়ি ছিল অবধারিত। আজও সে সব মুহূর্ত ফুরিয়ে যায়নি, কিন্তু শাড়ির প্রতি টানটা যেন কিছুটা ফিকে। আসলে ভালবাসা টিকিয়ে রাখতে যত্ন লাগে। শাড়িকেও নতুন করে ভালবাসতে শিখতে হবে— তাকে একটু আলাদা চোখে দেখতে হবে।
শাড়ি শুধুই একটা কাপড় নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অঞ্চলভেদে জলবায়ু, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর তাঁতিদের পরিশ্রমের গল্প। হ্যান্ডলুম শাড়ির কথাই ধরুন— ওড়িশা, গুজরাত, তামিলনাড়ু বা বাংলার তাঁতে বোনা শাড়িগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের দক্ষতা। আজ নানা সমস্যায় এই শিল্প বিপন্ন হলেও, ভাল শাড়ির সৌন্দর্য এখনও অনস্বীকার্য।
এবার আসি শাড়ি পরার কায়দায়। ফ্যাশনের কঠিন নিয়ম না মেনেও একটা কথা মনে রাখা জরুরি— স্বাচ্ছন্দ্যই আসল। তবে তার মানে এই নয় যে নতুন কিছু চেষ্টা করা যাবে না। বরং একটু খোলা মনে ভাবলেই দেখা যাবে, একই শাড়ি শুধু পরার ধরন বদলেই সম্পূর্ণ নতুন চেহারা পেতে পারে।
শাড়ি ড্রেপিং নিয়ে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ঋতা কপূর চিস্তির নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁর দেখানো নানা আঞ্চলিক ও আধুনিক ড্রেপিং স্টাইল প্রমাণ করে— সাধারণ শাড়িও অনন্য হয়ে উঠতে পারে। কখনও ধুতি স্টাইল, কখনও জলপাইগুড়ি ধাঁচে গিঁট দেওয়া আঁচল, কখনও আবার বক্স প্লিট— এই ছোট ছোট বদলেই শাড়ি হয়ে ওঠে আলাদা।
ভারী বুনটের আঁচল থাকলে সেটাকে সামনে এনে হাইলাইট করা যায়। উজ্জ্বল শাড়ির সঙ্গে নিরপেক্ষ ব্লাউজ বা শার্ট পরলে ভারসাম্য তৈরি হয়। শীতকালে ফুলহাতা স্কিভি বা লম্বা টপের সঙ্গে শাড়ি দারুণ মানায়। ব্লাউজ, গয়না আর পরার ভঙ্গি— এই তিনের সঠিক মিলেই তৈরি হয় সম্পূর্ণ লুক।
কোথায় যাচ্ছেন, কখন যাচ্ছেন, কী শাড়ি পরছেন— তার উপরেই নির্ভর করবে ড্রেপিং। “শাড়ি পরা ঝামেলার”, “সময় নেই”— এই অজুহাতগুলো আসলে অভ্যাসের অভাব। শাড়ি আমাদের পরিচয়, আমাদের সংস্কৃতির অংশ। একটু সাহস করে নতুন ভাবে পরুন— দেখবেন, স্বাচ্ছন্দ্য আর স্টাইল হাত ধরাধরি করেই আসছে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা