শরীর কি শক্তি বানাচ্ছে, নাকি চুপিচুপি চিনি জমাচ্ছে!
ডায়াবিটিস হঠাৎ এক দিনে এসে হাজির হয় না। বছরের পর বছর ভুল খাদ্যাভ্যাস, কম নড়াচড়া আর শরীরের ভেতরের হরমোনের গোলমাল—এই সব মিলিয়েই ধীরে ধীরে তৈরি হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। বাইরে থেকে তেমন কিছু বোঝা না গেলেও, ভিতরে ভিতরে তখন শরীর বড় বিপদের দিকে এগোতে থাকে।
ইনসুলিনের কাজ খুব সোজা—খাবার থেকে পাওয়া শর্করাকে ভেঙে শরীরের কোষে পৌঁছে দেওয়া, যাতে আমরা শক্তি পাই। কিন্তু ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করলে কী হয়?
একদিকে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না, ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি। অন্যদিকে, ভাঙতে না পারা শর্করা জমতে থাকে শরীরে। সেখান থেকেই ডায়াবিটিস, ওজন বৃদ্ধি, হৃদ্রোগ, প্রদাহ আর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যার সূত্রপাত।
ভালো খবর হল—রক্তপরীক্ষায় ডায়াবিটিস ধরা পড়ার আগেই শরীর কিছু সংকেত দিতে শুরু করে। আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় চিকিৎসক কুণাল সুদের মতে, এই ৫টি লক্ষণ খেয়াল রাখলেই আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব।
১. খাওয়ার পরেও খিদে পাচ্ছে বারবার?
সাধারণত ইনসুলিন ঠিকঠাক কাজ করলে খাবারের পর পেট ভরার অনুভূতি হয়। কিন্তু খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার খিদে পেলে বুঝতে হবে শর্করা ঠিকভাবে শক্তিতে বদলাচ্ছে না।
২. বিকেল হলেই ঝিমুনি, মাথা কাজ করছে না?
বিশেষ করে দুপুরের খাবারের পর যদি খুব ঘুম পায় বা মনোযোগ কমে যায়, তা হলে ধরে নিতে পারেন পেশিতে গ্লুকোজ পৌঁছচ্ছে না। অর্থাৎ ইনসুলিন বাধাপ্রাপ্ত।
৩. মিষ্টির প্রতি অদম্য টান?
বারবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হওয়াও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের লক্ষণ হতে পারে। শরীর তখন শক্তির অভাব মেটাতে আরও চিনি চাইছে।
৪. সব চেষ্টা সত্ত্বেও পেটের মেদ কমছে না?
স্বাস্থ্যকর খাবার, তেল-মশলা কম—সবই করছেন, তবু পেটের চর্বি কমছে না? চিকিৎসকদের মতে, ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করলে প্রথমেই পেটের চারপাশে মেদ জমে।
৫. ত্বকে কালচে বা খসখসে দাগ?
ঘাড়, বগল বা কনুইয়ের কাছে ত্বক যদি কালচে ও রুক্ষ লাগে, তা-ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ইঙ্গিত হতে পারে। কারণ তখন ত্বকে অতিরিক্ত কোষ জমতে শুরু করে।
এই লক্ষণগুলো মানেই যে ডায়াবিটিস, তা নয়। তবে এগুলো শরীরের সতর্কবার্তা। সময় থাকতেই খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা আর প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। শরীর কথা বলছে—শুনতে শিখলেই আপনি এক ধাপ এগিয়ে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা