শক্তির নতুন ব্যুহ: সাউথ কোরিয়ার ‘আয়রন ডোম’
উত্তেজনার ছায়া ক্রমশ ঘন হচ্ছে কোরীয় উপদ্বীপে। একদিকে পিয়ংইয়ং-এর পরমাণু হুমকি, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পাল্টা প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি। যুদ্ধের সম্ভাব্য ভয়াবহতা মাথায় রেখে, সোল এখন দুটি অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করছে—‘কোরিয়ান আয়রন ডোম’ এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধট্যাঙ্ক ‘কে-৩’। দুটোই যেন প্রতিরক্ষার বিশ্ব মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।
আকাশে ‘লৌহকবচ’: ইসরায়েলি প্রযুক্তিকে টেক্কা দিতে আসছে কোরিয়ান আয়রন ডোম
ইসরায়েলের বিখ্যাত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’-এর আদলে তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব সংস্করণ—‘কোরিয়ান আয়রন ডোম’। দেশটির অন্যতম প্রতিরক্ষা সংস্থা হানওয়া গ্রুপ এর তত্ত্বাবধানে এটি তৈরি হচ্ছে। তবে, শুধু অনুকরণ নয়—দক্ষিণ কোরিয়া দাবি করছে, তাদের তৈরি এই ডোম হবে আরও উন্নত, আরও সক্ষম।
প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার, এবং ২০২৮ সালের মধ্যেই প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বল্প থেকে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ-আকাশেই ধ্বংস করে দিতে পারবে এই নতুন সিস্টেম। শত্রুপক্ষ যখন শয়ে শয়ে রকেট পাঠাবে, তখনও এই র্যাডারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক লক্ষ্যকে একযোগে চিহ্নিত ও প্রতিহত করতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভূমিতে বজ্রের মতো আঘাত: আসছে অত্যাধুনিক ‘কে-৩’ ট্যাঙ্ক
শুধু আকাশেই নয়, মাটিতেও নিজেদের প্রতিরক্ষাকে ঢেলে সাজাচ্ছে সোল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সংস্থা হুন্ডাই রোটেম কাজ করছে এক নতুন প্রজন্মের ট্যাঙ্ক ‘কে-৩’-এর উপর, যেটি একাধারে হাইব্রিড, স্টেলথ, এবং এআই-চালিত।
এই ট্যাঙ্কে থাকছে একটি ১৩০ মিমি স্মুথবোর কামান, যা বর্তমানে ব্যবহৃত ‘কে-২ ব্ল্যাক প্যান্থার’-এর থেকেও বেশি শক্তিশালী। গোলা লোড হতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে তিন সেকেন্ড, অর্থাৎ বিপুল আগুনের জবাব মিলবে আরও দ্রুততায়। সবথেকে বড় কথা, এটিতে থাকবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় টারেট ও কৃত্রিম মেধা—যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারবে ‘কে-৩’।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ট্যাঙ্ককে হাইড্রোজেন প্রপালশান সিস্টেম দিয়ে চালানো হবে, যা ২০৪০ সালের মধ্যে একে পুরোপুরি হাইড্রোজেনচালিত স্টেলথ ট্যাঙ্কে পরিণত করবে। ট্যাঙ্কটি রেডার ফাঁকি দিতেও সক্ষম হবে।
প্রযুক্তির নতুন মাইলফলক
ইজ়রায়েলের আয়রন ডোম যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতা প্রমাণ করলেও, এর কিছু সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে হামাসের রকেটবৃষ্টির সময়। সাউথ কোরিয়ার গবেষকরা সেই ঘাটতিগুলো দূর করেই ‘কোরিয়ান আয়রন ডোম’ গড়ছেন। একইভাবে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘কে-৩’ ট্যাঙ্ক তৈরি হচ্ছে যাতে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণেও তা অক্ষত থাকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলি শুধু দেশীয় নিরাপত্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারেও এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে।
বেলের পানা: মোগল দরবার থেকে ওড়িশার পুজোর প্রসাদ—ভারতের প্রাচীন শরবতের আশ্চর্য যাত্রা