পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান: কোরিয়ার ‘ফাইটিং হক’ না কি ভারতের দেশি ‘অ্যামকা’?

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান! ভারতীয় বায়ুসেনা এই মুহূর্তে কঠিন এক বাস্তবের মুখোমুখি। এক দিকে বিমানের সংখ্যা কমছে, অন্য দিকে চিন ও পাকিস্তান নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে আধুনিক যুদ্ধবিমান দিয়ে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন…

August 11, 2025
1 min read

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান!

ভারতীয় বায়ুসেনা এই মুহূর্তে কঠিন এক বাস্তবের মুখোমুখি। এক দিকে বিমানের সংখ্যা কমছে, অন্য দিকে চিন ও পাকিস্তান নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে আধুনিক যুদ্ধবিমান দিয়ে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—নতুন যুদ্ধবিমান আনার ক্ষেত্রে ভারতের পছন্দ কী হবে? কোরিয়ার তৈরি আধুনিক ‘কেএফ-২১ ফাইটিং হক’, না কি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হতে চলা ‘অ্যামকা’?

গত কয়েক বছরে ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডার থেকে বহু পুরনো যুদ্ধবিমান অবসর নিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিমানসংখ্যা নেমে আসবে ২৯ স্কোয়াড্রনে, যেখানে কমপক্ষে ৪২ স্কোয়াড্রনের প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

এই ঘাটতি পূরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি ‘কেএফ-২১ বোরামে’ যুদ্ধবিমান এক সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। এটি স্টেল্‌থ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, দুই ইঞ্জিন ও এক আসন বিশিষ্ট এই যুদ্ধবিমান প্রথমবার আকাশে ওড়ে ২০২২ সালে। সোলের পরিকল্পনা, ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত ৪০টি এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ১২০টি বিমান তৈরি করা হবে। তবে এখনও ভারতের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা আগ্রহ দেখানো হয়নি।

অন্য দিকে, নয়াদিল্লি জোর দিচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট’ বা ‘অ্যামকা’-র ওপর। এই যুদ্ধবিমানও হবে স্টেল্‌থ ক্ষমতাসম্পন্ন, পঞ্চম প্রজন্মের, দুই ইঞ্জিন ও এক আসনযুক্ত। ইতিমধ্যেই পাঁচটি প্রোটোটাইপ তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে অ্যামকা প্রকল্পে রয়েছে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন এখনও সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা যায়নি। ফলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নির্ভরতা থাকছে। দ্বিতীয়ত, নির্মাণের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। HAL-এর পরিবর্তে সরকার এটি বেসরকারি সংস্থাকে দিতে চাইছে, যা নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।

পাকিস্তানের দিকেও চোখ রাখতে হচ্ছে ভারতকে। তুরস্কের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ নিয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনার খবর রয়েছে, যদিও এখনও কিছুই সরকারি ভাবে ঘোষণা হয়নি। তুরস্কের এই মাল্টিরোল জেটটি ব্রিটিশ সংস্থা BAE Systems-এর সহযোগিতায় তৈরি এবং এর প্রযুক্তি আরও উন্নত করার কাজ চলছে।

চিন ইতিমধ্যেই পঞ্চম এবং ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তাদের বায়ুসেনায় সংযুক্ত করেছে। ফলে ভারতের কাছে বিকল্প কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার SU-57 যুদ্ধবিমান হতে পারে ভারতের জন্য একটি “অটোমেটিক চয়েস”। কারণ, রাশিয়া প্রযুক্তি হস্তান্তরে আগ্রহী এবং ঘরোয়া উৎপাদনের রাস্তা খুলে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার সামনে এখন এক কঠিন প্রশ্ন—তৎক্ষণাৎ চাহিদা পূরণে আমদানির পথ নাকি একটু সময় নিয়ে, কিন্তু সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে, নিজের লড়াকু বিমান তৈরির দিশা? সময়ই এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *