লোহাগড় দুর্গে কেতন মৃত্যুরহস্য!
পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবাল-এর মৃত্যুর তদন্তে একাধিক জটিলতার মুখে পড়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে তাঁকে কে ঠেলে ফেলেছিল, তার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী এখনও পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের সেই সময়কার কোনও সিসিটিভি ফুটেজও মেলেনি। ফলে অভিযুক্ত সিয়া গোয়ল নাকি তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী, কে সরাসরি এই ঘটনার জন্য দায়ী— তা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, মামলাটিকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সব ধরনের বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পুলিশের লক্ষ্য, এমন একটি চার্জশিট আদালতে পেশ করা যাতে প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দুর্বল না হয়ে পড়ে।
রাজা রঘুবংশী মামলার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার সঙ্গে ইন্দওরের রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের কিছু মিল রয়েছে। সেই মামলায় তদন্তের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি যাতে কেতন অগ্রবালের মামলায় না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
পলিগ্রাফ পরীক্ষার প্রস্তুতি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিয়া গোয়লের পলিগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর) পরীক্ষা করানোর প্রস্তুতি চলছে। যদিও ভারতে পলিগ্রাফ পরীক্ষার ফল আদালতে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তবে তদন্তের নতুন সূত্র বা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তাঁদের ধারণা, এই পরীক্ষার মাধ্যমে এমন কিছু তথ্য সামনে আসতে পারে, যা পরে ডিজিটাল বা ফরেনসিক প্রমাণের সাহায্যে যাচাই করা সম্ভব হবে।
কোন প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে পুলিশ?
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে জানতে চাইছেন—
- ঘটনার আগে সিয়া কি দুর্গের উচ্চতা বা বিপজ্জনক স্থানগুলি নিয়ে কোনও তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন?
- কোথা থেকে ধাক্কা দিলে মৃত্যু নিশ্চিত হতে পারে, সে বিষয়ে কোনও অনলাইন অনুসন্ধান হয়েছিল কি?
- ঘটনার সময় ঠিক কে কেতনকে ধাক্কা দিয়েছিল?
এখনও পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলির নির্দিষ্ট উত্তর মেলেনি।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে সিয়া গোয়ল এবং চেতন চৌধরী— দু’জনেই সন্দেহের আওতায় রয়েছেন। তবে কেতনকে কে সরাসরি ধাক্কা দিয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষ বা প্রযুক্তিগত প্রমাণ এখনও তদন্তকারীদের হাতে আসেনি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন পুণের লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতন অগ্রবালকে ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ প্রমাণ সংগ্রহে জোর দিচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?