লীনার ‘গুপি শুট’ বিতর্ক!
শনিবার বিকেল টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে জমে উঠেছিল এক অস্বাভাবিক পরিবেশ। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের পর তাঁর ন্যায় বিচারের দাবিতে পদযাত্রায় যোগ দিতে আসেন টলিউডের প্রায় সব বড় মুখ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ঋষি কৌশিক, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, পরিচালক অরিন্দম শীল, সাংসদ-অভিনেতা জুন মালিয়া, বাদশা মৈত্র, পাপিয়া অধিকারী এবং আরও অনেকে।
শনিবারের এই পদযাত্রায় মুখোমুখি হয়েছিলেন আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধিরা। মূল প্রশ্ন—সম্প্রতি প্রযোজকরা কেন ‘গুপি শুট’ বা ফেডারেশনের অনুমতি এড়িয়ে শুটিং করেছেন।
স্বরূপ বিশ্বাসের মন্তব্য:
“প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার এ ব্যাপারে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। আমাদের কাছে কোনও প্রয়োজন ছিল না। বড় চ্যানেলের সঙ্গে যখন চুক্তি করা হয়, সবকিছু স্পষ্ট থাকে। কেন এমন করলেন, সেটা তাঁরা বলতে পারবেন।”
চ্যানেলের নীরবতা:
প্রথম সারির চ্যানেলেই রাহুল অভিনীত ধারাবাহিক চলছিল। স্বরূপ বলেন, “চ্যানেল কর্তৃপক্ষও কিছু বললে ভালো হতো, কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে হলে তাঁরা ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”
আমরা-ওরা সংস্কৃতি ইন্ডাস্ট্রিতে কাম্য কি?
পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় রাজনীতির রং লাগানো উচিত নয়। ভেদাভেদ ভুলে সবাই একজোট হয়ে প্রতিবাদ করা উচিত, যাতে রাহুল, তাঁর সন্তান এবং পরিবার ন্যায় পান। আমাদের লক্ষ্য রাহুলের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া।”
লাল পতাকা বিতর্ক:
বাদশা মৈত্র বলেন, “রাহুল বা আমরা দল করি না, আমরা সমর্থন করি। যাঁরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাহুলকে লাল পতাকা দিয়ে সম্মান জানাতে চেয়েছেন, সেটা তাঁদের ভালবাসা ও আবেগ। এটি অন্যায় নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “শোকপ্রকাশের মাধ্যম নানা হতে পারে। যিনি রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ করতেন, তাঁর ক্ষেত্রে এটি অযথা অন্যায় দেখিনি।”
নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত:
অনির্বাণ চক্রবর্তী বলেন, “অভিনেতারা একা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। আমরা ইউনিটের সঙ্গে কাজ করি, তাদের নির্দিষ্ট নির্দেশ মানতে হয়। একা সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”
শনিবারের এই দিনটি স্পষ্ট করে দিল—টলিউডে শিল্পী এবং প্রশাসন একদিকে নীরব, অন্যদিকে প্রতিবাদী। ‘গুপি শুট’-এর মতো বিতর্ক এবং পদযাত্রা দেখিয়েছে, শিল্পীরা নিজেরা ন্যায় ও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, কিন্তু সিদ্ধান্ত ও কৌশল প্রায়ই ইউনিট ও প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল।
এই ইস্যু আরও বড় প্রশ্ন তুলেছে—শিল্পী স্বরূপ, পরিচালক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কীভাবে আরও স্বচ্ছ ও সহমতপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যাতে শিল্পী ন্যায় এবং সম্মান দুইটাই পান।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না