২২ বছর পরেও টলিউডে পায়েল সরকারের জায়গা ঠিক কোথায়?
প্রেমের মাসে জন্ম পায়েল সরকারের। ক্যালেন্ডার বলছে, ১০ ফেব্রুয়ারি— ‘টেডি ডে’। পর্দায় তিনি যতটা বিস্ফোরক, বাস্তবে ঠিক ততটাই নরম, সহজ আর ছেলেমানুষি— এমনটাই বলেন যাঁরা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। দেব, আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সোহম চক্রবর্তী, শাকিব খান, অঙ্কুশ হাজরা— একের পর এক নায়কের সঙ্গে পর্দায় জুটি। ২২ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারে পায়েল নিজেকে বারবার ভেঙেছেন, আবার গড়েছেন।
ছোটপর্দা থেকেই যাত্রা শুরু। ‘একদিন প্রতিদিন’ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল বাঙালির ঘরের অন্দরমহলে। বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ সুদেষ্ণা রায়-অভিজিৎ গুহর ‘শুধু তুমি’ ছবিতে। তার পর দেবের সঙ্গে ‘আই লাভ ইউ’, ‘লে ছক্কা’, আবীরের সঙ্গে ‘বোঝে না সে বোঝে না’, সোহমের সঙ্গে ‘প্রেম আমার’, শাকিবের সঙ্গে ‘ভাইজান এলো রে’— তালিকা দীর্ঘ। আর সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘চতুষ্কোণ’-এ ইন্দ্রাশিস রায়ের ঠোঁটে গাঢ় চুম্বন— সেই দৃশ্য আজও আলোচনায়।
সময় বদলেছে, বদলেছে পায়েলের ছবির বাছাইও। তিনি যেমন করেছেন হালকা বাণিজ্যিক ছবি, তেমনই সমান্তরাল ধারার কাজেও সাবলীল। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘অনুসন্ধান’, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের ‘দ্য একেন’-এর পর পরিচালক জয়ব্রত দাসের প্রথম ছবি ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ ঋষভ বসুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শয্যাদৃশ্যে অভিনয় করে ফের চর্চায় আসেন পায়েল। পরিচালক জয়ব্রতের কথায়, “টানা তিন ঘণ্টা ধরে চিত্রনাট্য শুনে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছিলেন। এমন সাহসী দৃশ্যে অভিনয়ের আগে অনেকেই ইতস্তত করেন, পায়েলদির মধ্যে সে দ্বিধা ছিল না।” ছবির প্রয়োজনে লম্বা চুল কেটে ফেলতেও দ্বিধা করেননি তিনি।
ঋষভ বসুর অভিজ্ঞতাও আলাদা। তাঁর কথায়, “ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের আগে একটু নার্ভাস ছিলাম। পায়েল শুরুতেই বলেছিল, নাম ধরে ডাকতে— তাতেই সব সহজ হয়ে যায়।” পর্দায় রসায়নের জন্য আড্ডা, আলোচনা— সবই ছিল স্বাভাবিক। ঋষভের মতে, “পায়েলের আবেদন আজও অস্বীকার করার মতো নয়।”
বাস্তবের পায়েলকে যাঁরা চেনেন, তাঁদের মতে তিনি একেবারেই মাটির কাছাকাছি। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “খুব সাদামাঠা, ভীষণ আন্তরিক। কোনও রকম ভান নেই।” তবে তিনি এক বাস্তব প্রশ্নও তুলেছেন— আজকের ইন্ডাস্ট্রিতে শুধু কাজ নয়, ‘পিআর’-এরও দরকার। পায়েল সেই খেলায় কখনও নামেননি বলেই হয়তো তাঁর প্রতিভার তুলনায় সুযোগ কম আসছে।
পরিচালক রবি কিনাগির অবশ্য তাতে দ্বিমত। তাঁর কথায়, “পায়েলের মধ্যে কোনও খামতি নেই। বাণিজ্যিক আর সমান্তরাল— দুই ধারাতেই ও সমান দক্ষ।”
২২ বছর পরেও তাই প্রশ্ন থেকেই যায়— টলিউডের ‘পাটরানি’ কি আজও পায়েল? হয়তো রাজপাটের সংজ্ঞা বদলেছে। কিন্তু সাহস, সাবলীলতা আর অভিনয়ের জোর— এই তিন অস্ত্র নিয়ে পায়েল সরকার এখনও নিজের জায়গায় অনড়।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই