রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মেলনে মোদী যাচ্ছেন না, বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের কাঁধে দায়িত্ব

বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের কাঁধে দায়িত্ব আমেরিকার নিউ ইয়র্কে আসন্ন রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এবার বড় চমক। শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছিল, ভারতের তরফে প্রধান বক্তা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম তালিকাভুক্ত…

September 6, 2025
1 min read

বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের কাঁধে দায়িত্ব

আমেরিকার নিউ ইয়র্কে আসন্ন রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এবার বড় চমক। শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছিল, ভারতের তরফে প্রধান বক্তা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল। মোদীর পরিবর্তে ওই সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি-ই প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ভাষণ দেবেন।

২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সাধারণ অধিবেশন। সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন ব্রাজিলের বক্তৃতার মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হবে, তার পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তব্য রাখবেন। ভারতের বক্তৃতার দিন ধার্য করা হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল। ফলে মোদী গেলে তাঁর ও ট্রাম্পের একই মঞ্চে উপস্থিতি একেবারেই নিশ্চিত ছিল। এমনকি, অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হতে পারে। কিন্তু মোদীর না-যাওয়ার সিদ্ধান্তে সেই সম্ভাবনা আপাতত উবে গেল।

এ বছরের সম্মেলনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজ়রায়েল-হামাস সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা বড় আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে। ভারত সেখানে নিজের অবস্থান তুলে ধরবে জয়শঙ্করের মাধ্যমে। যদিও প্রশ্ন উঠছে— কেন হঠাৎ শেষ মুহূর্তে এই বদল?

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এর পিছনে রয়েছে বর্তমান বাণিজ্যিক টানাপোড়েন। রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল আমদানি করার জেরে সম্প্রতি ভারতের রপ্তানি পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে আমেরিকা। এতে দুই দেশের সম্পর্কের উপর চাপ পড়েছে। এরই মধ্যে মোদীর চিন সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে আলাদা বৈঠক আরও প্রশ্ন তুলেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই ঘনিষ্ঠতাকে ভালো চোখে দেখেননি।

শুধু তাই নয়, কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলা ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত নিয়েও আমেরিকা ও ভারতের অবস্থান ভিন্ন। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামিয়েছেন। দিল্লি সে দাবি মানেনি। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় মোদীর উপস্থিতি হলে, ট্রাম্পের সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়ানো বা হাত মেলানোও রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিতে পারত। সাউথ ব্লক সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলেই অনেকের অভিমত।

অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, মোদী গেলে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে শুল্ক সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা যেত। কিন্তু জয়শঙ্কর গেলে তেমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে বিদেশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা যে যথেষ্ট পরীক্ষিত, তা নিয়েও সংশয় নেই।

এই আবহে আরও এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। কয়েক দিন আগে তিনি মোদী, পুতিন ও জিনপিঙের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘‘ভারত এবং রাশিয়াকে আমরা চিনের অন্ধকারে হারিয়ে ফেলেছি।’’ কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মতবদল করে জানান, ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট। বরং তিনি কেবল রাশিয়ার থেকে ভারতের অতিরিক্ত তেল আমদানিতে হতাশ।

সব মিলিয়ে, নিউ ইয়র্কের রাষ্ট্রপুঞ্জ সম্মেলন ঘিরে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের জটিল সমীকরণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। মোদীর অনুপস্থিতিতে জয়শঙ্করের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান কতটা শক্ত করে তুলতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *