বাংলার জন্য নতুন রূপরেখা দিলেন মোদী!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম বক্তৃতাতেই রাজ্যের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। দিল্লিতে দলের সদর দফতর থেকে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে উঠে এল উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রায় ৪৫ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি বারবার জোর দিলেন ‘বিকশিত ভারত’-এর পাশাপাশি ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর প্রয়োজনীয়তার উপর। তাঁর কথায়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বাংলার উন্নয়ন অপরিহার্য। এই বার্তায় স্পষ্ট, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়েই আগামী দিনের উন্নয়ন এগোবে বলে ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ছিল স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর কথা বলেন মোদী। বহু দিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের কারণে এই প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর হয়নি। এবার সেটি দ্রুত চালু করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বাংলার মানুষ আর বঞ্চিত থাকবেন না।
এর পাশাপাশি, তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিও তাঁর বক্তৃতার অন্যতম মূল সুর ছিল। মোদী জানান, নতুন সরকার এমন পরিবেশ তৈরি করবে যাতে যুবকদের কাজের সুযোগ বাড়ে এবং কাজের জন্য রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা কমে। শিল্প, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকে জোর দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নারী নিরাপত্তার প্রশ্নেও কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রচারের মতোই জয়ের পরেও তিনি বলেন, মহিলাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা জোরদার করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করার আশ্বাস দেন, যাতে মহিলারা দিন-রাত নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারেন।
একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ রুখতেও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেন মোদী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে এই বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়েই দেখবে।
রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর কথায়। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বদলা নয়, বদল চাই।” অর্থাৎ প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়নমুখী রাজনীতির দিকে এগোনোর বার্তা দেন তিনি। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক দিক।
সব মিলিয়ে, এই বক্তৃতায় Narendra Modi একদিকে যেমন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, তেমনই প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের দিকটাও স্পষ্ট করেছেন। এখন দেখার, এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা