নতুন প্রকল্পে পুনর্বাসনের বার্তা
গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ২২ লাখ ৪০ হাজার, যা বাম আমলের শেষ পর্বের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার কম। তবে এই তথ্য ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
২০১১ সালের জনগণনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ তখন দেশের মধ্যে সপ্তম স্থানে ছিল পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যায়। সেই সময়ে রাজ্যের ২৪.০৫ লাখ মানুষ অন্য রাজ্যে কাজ করতেন। তাদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই ছিল বেশি। তবে ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ৪৫ শতাংশ বেড়েছিল। বাম আমলের শ্রমমন্ত্রী অনাদি সাহুর মতে, কৃষিকাজ ছেড়ে শ্রমিক হিসেবে অন্য রাজ্যে যাওয়ার প্রবণতা সেই সময় থেকেই বাড়তে শুরু করে।
কোভিড মহামারির সময় অন্যান্য রাজ্য থেকে ৪০ লক্ষাধিক পরিযায়ী শ্রমিক বাংলায় ফিরেছিলেন বলে সরকার জানিয়েছিল। ফলে বর্তমান পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। রাজ্য শ্রম দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নথিভুক্ত সংখ্যার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক বড়জোর ২-৪ লাখ হতে পারে।
এরই মধ্যে রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে নতুন উদ্যোগ। ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় শ্রমিকরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা পুনর্বাসন ভাতা পাবেন। ভ্রমণ সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথী কার্ড, স্কুলে ভর্তি, আবাসনের ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা মিলবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ভারতে বেশি মজুরির কারণে অনেক শ্রমিক বাইরে কাজ করতে যান। তাই সরকারি প্রণোদনা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আবার কেউ প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে পুনরায় অন্য রাজ্যে চলে গেলে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সরকার জানিয়েছে, ‘কর্মসাথী’ ও ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের তথ্য মিলিয়ে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক নতুন পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের জন্য পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে সরকারি সুবিধা সহজে পৌঁছায়। প্রশাসনিক মহলের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপ রাজ্যে কর্মসংস্থান তৈরি করতে সাহায্য করবে।
চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী