পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে সরকার!
পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) চালুর লক্ষ্যে বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে করা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। তবে বিলটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে— ইউসিসি কার্যকর হলে আসলে কী বদলাবে?
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল উদ্দেশ্য হল, ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সবার জন্য একই আইন কার্যকর করা। বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য পৃথক ব্যক্তিগত আইন বা পার্সোনাল ল চালু রয়েছে। ইউসিসি কার্যকর হলে সেই পৃথক ব্যবস্থার পরিবর্তে একটিই অভিন্ন আইন প্রযোজ্য হবে।
ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর প্রচেষ্টা চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতীতে সুপ্রিম কোর্টও একাধিক মামলায় এই বিষয়ে মত প্রকাশ করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্তরে ইউসিসি কার্যকর হয়নি। রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম উত্তরাখণ্ড এই আইন চালু করে। পরে গুজরাত ও অসমও একই পথে হাঁটে।
পশ্চিমবঙ্গেও সেই তিন রাজ্যের মডেল অনুসরণ করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, জনজাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায়কে এই আইনের বাইরে রাখা হতে পারে।
যদি একই ধারা অনুসরণ করা হয়, তবে বিয়ের সরকারি নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক হতে পারে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের নিয়ম আনা হতে পারে। বহুবিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা, ধর্ম পরিবর্তন করে দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ বন্ধ করা এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অভিন্ন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে উত্তরাধিকার আইনে। ছেলে-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী— সকলের জন্য সমান সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিধির কথা বলা হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মে বিদ্যমান উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বৈষম্য দূর করার দাবিও ইউসিসি-র অন্যতম ভিত্তি।
তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। বিরোধীদের একাংশের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব ব্যক্তিগত আইন ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ণ হতে পারে। আবার সমর্থকদের মতে, একই আইনের মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে এবং পারিবারিক আইনে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে।
এখনও পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি-র চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ হয়নি। ফলে রাজ্য সরকার ঠিক কোন কোন বিধান অন্তর্ভুক্ত করবে, তা বিল বিধানসভায় পেশ হওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে। তাই আপাতত আলোচনা ও জল্পনা চললেও, শেষ পর্যন্ত আইনের চূড়ান্ত রূপই নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের পারিবারিক আইনে কতটা পরিবর্তন আসতে চলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?