রথের টানে রাজ্যজুড়ে জগন্নাথ দর্শন
রথযাত্রা মানেই আস্থা, উৎসব আর ঐতিহ্যের মিলনমেলা। ওড়িশার পুরী জগন্নাথধামের টান বিশ্বব্যাপী হলেও, এ রাজ্যেও ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক জগন্নাথ মন্দির, যার মধ্যে অনেকগুলিই সমানভাবে ঐতিহ্যবাহী, আবার কিছু একেবারেই নতুন। ২০২৫ সালে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পরে এই শহরে প্রথমবার রথযাত্রার আয়োজন হয়েছে রাজকীয় আঙ্গিকে। একই সঙ্গে কলকাতার আনন্দপুরেও তৈরি হয়েছে এক নতুন জগন্নাথ মন্দির। পুরনো মাহেশ থেকে শুরু করে নিউটাউন, খিদিরপুর—রাজ্যের নানা প্রান্তেই এবার রথের দিন ঘুরে দেখা যায় এই পাঁচ বিখ্যাত মন্দির।
দিঘার জগন্নাথ মন্দির:
২০২২ সালে শুরু হওয়া নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৫ সালে অক্ষয় তৃতীয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হয় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। প্রায় ২০ একর জমিতে নির্মিত এই মন্দির তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। নাটমন্দির, ভোগমণ্ডপ, গর্ভগৃহ ও জগমোহনসহ সম্পূর্ণ শৈল্পিক কাঠামোয় নির্মিত এই মন্দিরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নিমকাঠের জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা, পাশে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ। সৈকতের ধারে এই বিশাল মন্দির ও তার প্রথম রথযাত্রা এবার পর্যটকের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
মাহেশের প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির:
হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশে অবস্থিত রাজ্যের সবচেয়ে পুরনো জগন্নাথ মন্দির। ১৩৯৬ সালে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারীর পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হওয়া এই মন্দিরে রথযাত্রা চলে আসছে ছ’শো বছরেরও বেশি সময় ধরে। বল্লভপুরে ‘মাসির বাড়ি’ যাওয়ার রীতি, প্রাচীন কাঠের রথ ও লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণ—সব মিলে মাহেশের রথ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
খিদিরপুরের পুরী ধাঁচের মন্দির:
কলকাতার খিদিরপুর ট্রাম ডিপোর কাছে অবস্থিত এই মন্দির পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি। ২০০৩ সালে গঠিত নতুন কাঠামোয় রয়েছে অরুণ স্তম্ভ, গরুড় স্তম্ভ, এবং রত্নবেদির অনুকরণ। মূল মন্দিরটি তৈরি হয় ১৯৬৯ সালে এবং পরে আরও উন্নয়ন হয়। এখানেও প্রতিবছর জমকালোভাবে পালিত হয় রথযাত্রা।
আনন্দপুরের নতুন মন্দির:
কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ কাঠা জমিতে তৈরি হওয়া এই নবনির্মিত মন্দিরটি এবার প্রথমবার রথযাত্রার জন্য প্রস্তুত। ৫৫ ফুট উঁচু এই মন্দির নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে বেলেপাথর, আর ভগবান জগন্নাথের নিমকাঠের মূর্তি আনা হয়েছে সরাসরি পুরী থেকে।
নিউটাউনের আধুনিক মন্দির:
নিউটাউনের কারিগরি ভবনের কাছের এই মন্দির আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। সমুদ্র মন্থনের দৃশ্য সহ ভাস্কর্যখচিত এই মন্দির চত্বরে রয়েছে জলসজ্জা, পাথরে বাঁধানো প্রাঙ্গণ এবং সুবিশাল গর্ভগৃহ। এখানে পূজিত হন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা।
রথের সময় বাংলার বুকে এই মন্দিরগুলি হয়ে উঠেছে উৎসবমুখরতা আর আধ্যাত্মিকতার মিলিত কেন্দ্র। আপনি যদি এ বছর রথ উপলক্ষে কিছুটা সময় দিতে পারেন, তবে এই পাঁচ মন্দিরের মধ্যে একটিতে পা রাখলেই মিলবে অপার শান্তি ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা।
স্মৃতি ধরে রাখার জাদু: মস্তিষ্কে অ্যাসিটোকোলিন সচল রাখতে রোজকার অভ্যেসে আনুন এই পাঁচ পরিবর্তন