রক্ত যদি লাগে, দিতে হবে নিজেকেই! বেঙ্গালুরুর এক মহিলার দেহে মিলল সম্পূর্ণ নতুন রক্তের গ্রুপ

বেঙ্গালুরুর এক মহিলার দেহে মিলল সম্পূর্ণ নতুন রক্তের গ্রুপ! বিরল বললেই আমরা বুঝি—দুর্লভ। কিন্তু বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে যে রক্তের গ্রুপ পাওয়া গিয়েছে, সেটি তো একেবারেই অভূতপূর্ব। এমন একটি রক্তের গ্রুপ,…

July 30, 2025
0 min read

বেঙ্গালুরুর এক মহিলার দেহে মিলল সম্পূর্ণ নতুন রক্তের গ্রুপ!

বিরল বললেই আমরা বুঝি—দুর্লভ। কিন্তু বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে যে রক্তের গ্রুপ পাওয়া গিয়েছে, সেটি তো একেবারেই অভূতপূর্ব। এমন একটি রক্তের গ্রুপ, যা আগে পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায়নি। ৩৮ বছর বয়সী ওই মহিলার শরীরে পাওয়া এই নতুন রক্তের গ্রুপের নামকরণ করা হয়েছে ‘সিআরআইবি’। এর নামের ‘আই’ ও ‘বি’ এসেছে ভারত ও বেঙ্গালুরুর নাম থেকে, যেখানে প্রথম এই গ্রুপ শনাক্ত হয়েছে।

অবাক করা খোঁজ

কর্ণাটকের কোলকার জেলার বাসিন্দা ওই মহিলা হার্টের চিকিৎসার জন্য কলকাতার আর এল জালাপ্পা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসার সময় তার রক্তের প্রয়োজন হলে দেখা যায়, তার রক্তের গ্রুপ মিলছে না দেশের কোথাও পাওয়া রক্তের সাথেই। এমনকি পরিবারের কেউ, আত্মীয়স্বজনের রক্তও মেলেনি তার সঙ্গে। চিকিৎসকরা অবশেষে তাঁকে পাঠান বেঙ্গালুরুর রোটারি ব্লাড সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ল্যাবে। সেখানে পরীক্ষার পর দেখা যায়, তার রক্তে এমন এক অ্যান্টিজেন আছে, যেটি আগে কেউ খুঁজে পায়নি।

আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় নিশ্চিত

বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ওই রক্তের নমুনা পাঠানো হয় ব্রিটেনে, ব্রিস্টলের একটি উন্নত গবেষণাগারে। ১০ মাসের পরীক্ষায় তারা নিশ্চিত হন, এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি রক্তের গ্রুপ, যা ক্রোমার ব্লাড গ্রুপ সিস্টেমে নতুন সংযোজন হিসেবে ‘সিআরআইবি’ নামে তালিকাভুক্ত করা যায়।

জুন মাসে মিলানে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক ব্লাড ট্রান্সফিউশন কনফারেন্সে এই নতুন রক্তের গ্রুপ নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পথও খোঁজা হয়।

‘নিজেকে রক্ত দিতে হবে’—অটোলোগাস ট্রান্সফিউশন

বিশ্বে কেউই ওই মহিলার রক্তের গ্রুপের সঙ্গে মিলবে না। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে তার যদি রক্ত দিতে হয়, তা অন্য কারোর থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, ভবিষ্যতের জন্য নিজের রক্ত সংরক্ষণ করতে হবে নিজেকেই।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় অটোলোগাস ট্রান্সফিউশন—অর্থাৎ নিজের রক্ত নিজেই সংগ্রহ করে রাখা। তার জন্য প্রথমে ওই মহিলার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে হবে। পরে নিয়মিত নিজের জন্য রক্তদান করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করা যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত

এই বিরল রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। রক্তের এই গ্রুপের অস্তিত্ব শুধু রোগীর জন্য নয়, ভবিষ্যতে এমন বিরল রক্তের সন্ধান ও ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারণা আনতে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল, রক্তের গ্রুপের বৈচিত্র্য কত বিস্ময়কর হতে পারে। সাধারণ রক্তদাতাদের জন্যও এটি বার্তা—নিজের রক্ত দান করা কত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে কারও জীবনে। আর বিশেষ করে এমন বিরল রক্তের ক্ষেত্রে, নিজেকে প্রস্তুত রাখা ছাড়া বিকল্প নেই।

শেষ কথা

বেঙ্গালুরুর এই মহিলার ক্ষেত্রে যেমন দেখা গেছে, কখনও কখনও জীবন বাঁচাতে নিজের রক্ত নিজেকেই দিতে হয়। এক নতুন রক্তের গ্রুপের আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানে যে অজানার দরজা খুলে দিয়েছে, তা আগামীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে। আর এই ঘটনা আমাদের সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয়, রক্তের প্রতি সচেতন থাকা ও নিয়মিত রক্তদানে থাকা কতটা জরুরি।

করিশ্মার কঠিন সময়ে করিনার নীরব শক্তি: কিভাবে দিদিকে পাশে দাঁড়ালেন বেবো?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *