যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ড: “গেট খোলা ছিল, পুলিশও ছিল না”—নিজের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন সঞ্জয়

যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ড! যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসিকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে এবার নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন বৌবাজারের বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষাল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তিনি যা দেখেছেন, তা তাঁর ভাষায়…

May 20, 2026
1 min read

যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ড!

যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসিকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে এবার নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন বৌবাজারের বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষাল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তিনি যা দেখেছেন, তা তাঁর ভাষায় ছিল সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ও নিরাপত্তাহীন এক পরিস্থিতি।

সঞ্জয়ের দাবি, ম্যাচ শুরুর আগেই ভিভিআইপি গ্যালারির নীচের একটি গুরুত্বপূর্ণ গেট খোলা ছিল। তাঁর কথায়, “দেখলাম ভিভিআইপি স্ট্যান্ডের নীচের গেটটা খোলা। হঠাৎ করেই ৭০-৮০ জন ঢুকে গেল। কারও গলায় অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ছিল না। পরে আরও অনেকে ঢুকে পড়ে।”

এরপর পরিস্থিতি আরও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে বলে জানান তিনি। সঞ্জয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্যালারিতে বসে ছবি তোলার সময়ই তিনি লক্ষ্য করেন যে মাঠের ভেতরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। তাঁর দাবি, “যখন মেসি মাঠে ঢুকছেন, তখন মিক্সড জ়োনের সামনে একজন পুলিশকর্মীও ছিল না।”

সেই সুযোগেই অনেকে মাঠে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মানুষ পুলিশের পরিচয়পত্র দেখিয়ে বা বিশেষ কার্ড ব্যবহার করে নিজেদের আত্মীয়দেরও মাঠে ঢুকিয়ে দেন। প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ মেসিকে ঘিরে ফেলেছিল বলে তাঁর দাবি।

এই পরিস্থিতিতে সঞ্জয় নিজেও আবেগের বশে মাঠে ঢুকে পড়েন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আগে গ্যালারিতে থাকলেও পরে টিকিট ছিঁড়ে নিচে নেমে আসেন এবং মাঠে প্রবেশ করেন। “বারবার ঘোষণা হচ্ছিল মাঠ খালি করার জন্য, কিন্তু কেউ শোনেনি। মেসি সেন্টার সার্কেল থেকে বাইরে যাচ্ছিলেন, তখনই আমি একটা ছবি তুলতে এগিয়ে যাই,” বলেন সঞ্জয়।

তবে ঘটনার পর তাঁর মধ্যে আক্ষেপও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। “পরে খারাপ লেগেছিল। ক্ষমা চেয়ে পোস্টও করেছি। আমি হয়তো কিছুটা দায়ী, কিন্তু সবটা পরিকল্পিত ছিল না—আবেগের মুহূর্তে হয়ে গেছে,” তাঁর মন্তব্য।

তিনি সরাসরি প্রশাসনের দিকেও আঙুল তুলেছেন। সঞ্জয়ের অভিযোগ, পুরো ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। তাঁর কথায়, “পুলিশ ছিল না বললেই চলে। শুধু এনএসজি ছিল। আগে থেকে কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই এত বিশৃঙ্খলা হয়েছে।”

ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে যুবভারতীর সেই রাত, যেখানে মেসি, সুয়ারেস, ডি’পলদের ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারণে মেসিকে দ্রুত মাঠ ছাড়তে হয়।

সব মিলিয়ে সঞ্জয়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে একদিকে আবেগের তাড়না, অন্যদিকে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ—যা সেই বিতর্কিত ঘটনার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *