যাদবপুরে কি অবশেষে সমাধান? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে ছাত্ররা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অচলাবস্থার অবসান কি এবার হতে চলেছে? নয় দিন ধরে চলা এই উত্তেজনার পর সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্রদের দুই প্রতিনিধির বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। এই বৈঠকের…

March 10, 2025
1 min read

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অচলাবস্থার অবসান কি এবার হতে চলেছে? নয় দিন ধরে চলা এই উত্তেজনার পর সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্রদের দুই প্রতিনিধির বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে অনেকেই আশাবাদী।

ছাত্রদের দাবিতে সাড়া দিল কর্তৃপক্ষ

যাদবপুরের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল— সোমবার দুপুর ১টার মধ্যে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (EC) বৈঠক ডাকা হোক। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষ আলোচনা ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও এটি মূল EC বৈঠক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও শারীরিক অবস্থার কারণে ক্যাম্পাসে আসছেন না। তাই তার অনুপস্থিতিতেই বৈঠক হবে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ডিন অফ স্টুডেন্টস এবং বিভিন্ন বিভাগের ডিনরা।

আন্দোলনের ধার কমছে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য উপাচার্য ইতিমধ্যেই ছাত্রদের কাছে আবেদন করেছেন। শিক্ষকদের সংগঠন JUTA-ও একই অনুরোধ জানিয়েছে। শনিবার অসুস্থ উপাচার্যকে দেখতে হাসপাতালে যান কয়েকজন ছাত্র। এতে আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এখনো আন্দোলনরত ছাত্রদের একাংশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে— EC বৈঠকে সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না এলে প্রশাসনিক ভবন অচল করে দেওয়া হবে। উপাচার্যের অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দফতর বন্ধ করে দেওয়া হবে, তবে পরীক্ষার বিভাগ এবং স্কলারশিপ অফিস এই আন্দোলনের আওতার বাইরে থাকবে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: কী হয়েছিল ১ মার্চ?

গত ১ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলে ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তার গাড়ি আটকে ধরে ছাত্ররা দাবি করে, অবিলম্বে ছাত্র সংসদের নির্বাচন করাতে হবে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের হামলায় মন্ত্রীর গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং তিনি আহত হন।

বিপরীতে ছাত্র সংগঠন এসএফআই দাবি করেছে, ব্রাত্য বসুর গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন ছাত্ররা। এই ঘটনার জেরে যাদবপুরে শুরু হয় লাগাতার বিক্ষোভ, ক্লাস বয়কট এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা।

রাজনৈতিক উত্তাপ ও পথে নেমে প্রতিবাদ

যাদবপুরের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপও তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তৃণমূলপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন WEBCUPA আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি ‘শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য চলছে’ এই অভিযোগ তুলে মিছিল করেছে।

রবিবার কলকাতার হাজরা এবং ধর্মতলা থেকে দুটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। একদিকে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে “বাংলার মেয়ে অভয়ার হত্যার বিচার চাই” বলে স্লোগান তোলা হয়, অন্যদিকে বিজেপির মিছিল টালিগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে যাদবপুর থানার সামনে এসে শেষ হয়।

ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কী?

নয় দিন ধরে ক্লাস বয়কট চলার ফলে ছাত্রদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ছাত্রদের দাবি, উপাচার্যকে সরাসরি তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি তা করতে পারেননি।

এর মধ্যে আন্দোলনের অন্যতম আহত ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায় এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দাবি করা হচ্ছে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় তিনি আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সোমবারের বৈঠক: সমাধানের আশার আলো?

সোমবারের বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রদের দাবিগুলো কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে, তার উপর নির্ভর করছে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ। যদি প্রশাসন সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে নয় দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থা কাটতে পারে।

তবে যদি প্রশাসন ও ছাত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য বজায় থাকে, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে। তাই যাদবপুরের ছাত্র-শিক্ষক মহল অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে।

ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *