মোদীর ভাষণে দুর্নীতি ও তৃণমূলকে নিশানা: বাংলার মাটিতে নতুন স্লোগান

মোদীর ভাষণে দুর্নীতি ও তৃণমূলকে নিশানা! দুর্নীতি বিরোধী বার্তা থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ, উন্নয়ন থমকে যাওয়া— কলকাতার সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতায় উঠে এল একাধিক ইস্যু। দমদমে অনুষ্ঠিত এই সভায়…

August 22, 2025
1 min read

মোদীর ভাষণে দুর্নীতি ও তৃণমূলকে নিশানা!

দুর্নীতি বিরোধী বার্তা থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ, উন্নয়ন থমকে যাওয়া— কলকাতার সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতায় উঠে এল একাধিক ইস্যু। দমদমে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি সরাসরি নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের নেতাদের। একই সঙ্গে বাংলার উন্নয়নের রোডম্যাপও তুলে ধরলেন বিজেপি নেতা।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই দুর্নীতি প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘শিক্ষক নিয়োগ মামলায় গ্রেফতারির পরেও তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রীরা পদ ছাড়তে চাননি। রেশন কেলেঙ্কারিতে ধরা পড়েও একই ছবি দেখা গিয়েছে। এটা কি জনগণকে সম্মান করার মতো আচরণ? এঁরা জেলে থেকেও মন্ত্রীর কাজ করেছেন! সংবিধানের এ অপমান আমি মেনে নেব না।’’ তিনি স্পষ্ট করেন, দুর্নীতি করলে প্রধানমন্ত্রীও ছাড় পাবেন না। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তৃণমূল সংসদে দুর্নীতি বিরোধী বিলে বিরোধিতা করছে।

এরপর অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সরব হয়ে মোদী বলেন, ‘‘বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে কি হবে না? বিজেপিকে ভোট দিন, বিজেপি তাড়াবে। আজ এরা চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, নাগরিকদের অধিকারে ভাগ বসাচ্ছে, মা-বোনেদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। কিন্তু তৃণমূল ভোটব্যাঙ্ক রক্ষায় এদেরই প্রশ্রয় দিচ্ছে।’’

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘আমরাই বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছি। বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ একই সঙ্গে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘‘বাংলার উন্নয়নের জন্য আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আছে। কিন্তু তৃণমূল শুধু কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রেখেছে। তাই একবার বিজেপিকে সুযোগ দিন, আসল পরিবর্তন দেখুন।’’

সভায় উঠে এল জাতীয় নিরাপত্তার কথাও। ‘‘অপারেশন সিঁদুর’’ প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, ‘‘আমাদের সেনারা এমন শিক্ষা দিয়েছে যে পাকিস্তানের ঘুম উড়ে গিয়েছে। বাংলার সেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’’

বাংলার গৌরবময় অতীত ফেরানোর ডাক দিয়ে মোদী স্লোগান তুললেন— ‘‘তৃণমূলকে সরাও, বাংলাকে বাঁচাও।’’ তাঁর নতুন প্রচার স্লোগানও শোনা গেল— ‘‘বাঁচতে চাই, তাই বিজেপি চাই।’’ তিনি দাবি করেন, এই পরিবর্তন হলে গরিবের অধিকার গরিবের কাছে পৌঁছবে, কৃষক উপকৃত হবেন, মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

তাঁর মতে, তৃণমূলের শাসন চলাকালীন উন্নয়ন থমকে আছে। ‘‘প্রথমে কংগ্রেস, পরে বাম, আর এখন তৃণমূল— সব সরকারই মানুষকে নিরাশ করেছে। টিএমসি মানেই ‘ক্রাইম’ আর ‘কোরাপশন’। তাই এদের বিদায় না হলে বাংলায় প্রকৃত উন্নয়ন আসবে না,’’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থ বরাদ্দ নিয়েও সরব হন তিনি। অভিযোগ তোলেন, ‘‘বাংলার জন্য কেন্দ্র যে টাকা পাঠায়, তার বেশির ভাগই লুট হয়ে যায়। মানুষের কাজে লাগে না, কাজে লাগে তৃণমূল ক্যাডারের জন্য। ফলে পশ্চিমবঙ্গ জনকল্যাণে পিছিয়ে পড়ছে।’’

সবশেষে দুর্গাপুজোর আবহ টেনে মোদী বলেন, ‘‘আমি এমন সময়ে এসেছি যখন কুমোরটুলিতে প্রতিমা গড়ার কাজ চলছে। উৎসবের আনন্দ আর উন্নয়ন যখন একসঙ্গে আসে, তখন খুশি দ্বিগুণ হয়।’’

মোটের উপর তাঁর ভাষণে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান, তৃণমূল বিরোধী আক্রমণ এবং উন্নয়নের রোডম্যাপ স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠল। সভা জুড়ে প্রতিটি বক্তব্যেই তিনি বাংলায় বিজেপির বিকল্প পথ তুলে ধরার চেষ্টা করলেন।

জিএসটি সংস্কার: শুধু ৫% আর ১৮% কর, মদ-সিগারেটে সর্বোচ্চ ৪০%

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *