মোদীর ঝালমুড়ি-প্রশংসার পর আলোচনায় কলকাতার মুড়ি-সংস্কৃতি!
ঝালমুড়ি বাঙালির আবেগের নাম। কলকাতার রাস্তা, পার্ক, অফিসপাড়া কিংবা বিকেলের আড্ডা— সর্বত্রই এই সহজ খাবারের আলাদা কদর রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় রাজনীতির মঞ্চেও উঠে এসেছে ঝালমুড়ির নাম। এনডিএ-র এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে ঝালমুড়ির বাটি তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও সেই ঝালমুড়ির প্রশংসা করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। এর পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলার এই জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার।
যদিও ঝালমুড়ি কলকাতার প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়, তবু কিছু দোকান বছরের পর বছর ধরে স্বাদ ও বৈচিত্র্যের জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে।
চাঁদনি চক বাজার
চাঁদনি চকের ব্যস্ত বাজারের মধ্যে শতবর্ষপ্রাচীন একটি ঝালমুড়ির দোকান বহুদিন ধরেই খাদ্যরসিকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। এখানে ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী মুড়ির সঙ্গে মেশানো হয় নিমকি, গাঠিয়া, নকুলদানা, বিভিন্ন ধরনের চানাচুর, ঝুরিভাজা এবং বাদাম। প্রত্যেকের স্বাদ অনুযায়ী তৈরি হয় আলাদা ঝালমুড়ি।
রাসেল স্ট্রিট
রাসেল স্ট্রিটের ‘মশলা মুড়ি’ বহু বছর ধরেই জনপ্রিয়। দোকানমালিক নিজেই বিশেষ মশলা তৈরি করেন এবং সেই মশলাই ঝালমুড়ির স্বাদকে অন্য মাত্রা দেয়। এখান থেকে চাইলে আলাদা করে মশলার প্যাকেটও কিনে নিয়ে যাওয়া যায়।
লর্ড সিনহা রোড
রবীন্দ্র সদনের কাছাকাছি এই এলাকায় ঝালমুড়ির একাধিক দোকান থাকলেও একটি পুরনো দোকান বিশেষভাবে পরিচিত। ধনে, জিরে, মৌরি, গোলমরিচ, দারচিনি-সহ নানা মশলার মিশ্রণে তৈরি বিশেষ গুঁড়ো এখানে ব্যবহার করা হয়। তাজা শসা, গাজর, টম্যাটো ও পেঁয়াজ কেটে মুড়ির সঙ্গে মেশানো হয়, যা স্বাদকে আরও সমৃদ্ধ করে।
পার্ক স্ট্রিট
পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতেও রয়েছে কয়েকটি জনপ্রিয় ঝালমুড়ির ঠেক। ছোলা, বাদাম, চানাচুর, ভুজিয়া, তেঁতুল, সর্ষের তেল এবং লেবুর রসের মিশেলে তৈরি এখানকার ঝালমুড়ি বহু মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
কৈখালী
কৈখালীর একটি ছোট্ট স্টলও স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ বাদাম, নারকেলের কুচি ও অন্যান্য উপকরণ মেশানোর জন্য এখানকার ঝালমুড়ির স্বাদ আলাদা বলে মনে করেন নিয়মিত ক্রেতারা।
শুভেন্দুর ঝালমুড়ির সহজ রেসিপি
এনডিএ বৈঠকে যে ঝালমুড়ি পরিবেশন করা হয়েছিল, তার রেসিপিও বেশ সরল। প্রয়োজন চার বাটি মুড়ি, ভাজা চিনেবাদাম, চানাচুর, ঝুরিভাজা, সেদ্ধ আলু এবং সর্ষের তেল। প্রথমে একটি বড় পাত্রে মুড়ি নিয়ে তার মধ্যে বাদাম, চানাচুর, ঝুরিভাজা ও ছোট ছোট করে কাটা সেদ্ধ আলু মেশাতে হবে। শেষে স্বাদমতো সর্ষের তেল দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
এই ঝালমুড়ির বিশেষত্ব হল, এতে আলাদা কোনও মশলা ব্যবহার করা হয় না। সর্ষের তেলের ঝাঁজ এবং উপকরণগুলির নিজস্ব স্বাদই একে অনন্য করে তোলে।
রাজনীতির মঞ্চ থেকে রাস্তার আড্ডা— ঝালমুড়ি আজও বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর কলকাতার এই বিখ্যাত মুড়ি-ঠেকগুলি সেই ঐতিহ্যকেই আজও ধরে রেখেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?