মোদীর জন্য বিশেষ ‘শক্তি ভোজ’!
দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রা বরাবরই আলোচনার বিষয়। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একের পর এক বৈঠক, সফর, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং জনসংযোগ— সব কিছুর মধ্যেও তাঁর প্রাণশক্তি ও কর্মক্ষমতা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। সেই কারণেই সম্প্রতি তাঁর জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শক্তি ভোজ’।
এই বিশেষ মেনুর পরিকল্পনা করেছেন খ্যাতনামা পুষ্টিবিদ ও রন্ধনশিল্পী Luke Coutinho। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি খাবারের আয়োজন করা, যা একদিকে যেমন পুষ্টিগুণে ভরপুর, অন্যদিকে স্বাদেও হবে অনন্য। সমাজমাধ্যমে তিনি এই মেনুর বিস্তারিত তুলে ধরে সাধারণ মানুষকেও এমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
শুরুতেই সতেজতার ছোঁয়া
গরমের কথা মাথায় রেখে ভোজের শুরু হয়েছে দুটি স্বাস্থ্যকর পানীয় দিয়ে। প্রথমটি আমপান্না, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। দ্বিতীয় পানীয়টি তৈরি হয়েছে তুলসির বীজ, পুদিনা এবং জলজিরা দিয়ে, যা হজমশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে সতেজ রাখে।
স্টার্টারে স্বাস্থ্য ও স্বাদের মেলবন্ধন
প্রথম পাতে রাখা হয়েছে ধনে-পনির খাণ্ডবি। বেসনের পাতলা স্তরে তৈরি এই পদে রয়েছে টাটকা ধনেপাতা, পনির এবং তিলের ব্যবহার। ভাপে রান্না হওয়ায় এটি কম তেলযুক্ত এবং সহজপাচ্য।
এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয়েছে কাঁচা পেঁপে ও গাজরের হালকা স্যালাড, যা ভিটামিন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ।
আচারে বাড়তি স্বাদ
মেনুতে রয়েছে দু’ধরনের আচার। একটি সর্ষে ও চিনেবাদাম দিয়ে তৈরি, যেখানে ঝাঁজ এবং টকের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে। অন্যটি আদা ও হলুদ দিয়ে তৈরি তেলবিহীন আচার, যা স্বাস্থ্যকর হওয়ার পাশাপাশি হজমের পক্ষেও উপকারী।
মূল খাবারে ঐতিহ্যের ছোঁয়া
‘শক্তি ভোজ’-এর প্রধান আকর্ষণ পাঁচটি পুষ্টিকর পদ।
প্রথমেই রয়েছে ধোঁয়া-গন্ধমাখা বেগুনের ভর্তা, যা কম মশলায় তৈরি হলেও স্বাদে ভরপুর।
এর সঙ্গে রয়েছে ‘গাভার নু শাক’— এক ধরনের শিম দিয়ে তৈরি গুজরাতি সবজি।
খাবারের অন্যতম বিশেষ অংশ হল সাদা মাখন মাখানো বাজরার রুটি। বাজরা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি শস্য, যা দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
পাশাপাশি রাখা হয়েছে ভাত অথবা জোয়ার ও মুগ ডালের খিচুড়ি। দু’টিরই পুষ্টিগুণ যথেষ্ট এবং সহজপাচ্য।
এ ছাড়া রয়েছে ছাতু ও দই দিয়ে তৈরি ‘ছাতুর কড়ি’, যা প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকের চমৎকার উৎস।
মিষ্টি ও হজমের যত্ন
ভোজনের শেষে পরিবেশন করা হয়েছে গুজরাতের জনপ্রিয় মিষ্টি ‘ফাড়া নী লাপসী’। ভাঙা গম, ঘি, গুড়, কেশর, শুকনো আদা ও বাদাম দিয়ে তৈরি এই পদ পুষ্টিকর হওয়ার পাশাপাশি স্বাদেও সমৃদ্ধ।
খাবারের পর রয়েছে জিরে মেশানো ছাস বা বাটারমিল্ক, যা হজমে সাহায্য করে এবং পেট ভার হওয়ার অনুভূতি কমায়।
মুখশুদ্ধিতেও স্বাস্থ্য সচেতনতা
শেষ পাতে রাখা হয়েছে মৌরি, ভাজা ধনে, ডিলের বীজ ও তিসির বীজের মিশ্রণ। পাশাপাশি রয়েছে পানপাতায় মোড়ানো ঘরে তৈরি গুলখণ্ড, যা খাবারের সমাপ্তিকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে।
সব মিলিয়ে ‘শক্তি ভোজ’ শুধুমাত্র একটি খাবারের তালিকা নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পুষ্টির ভারসাম্য এবং ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির এক সুন্দর উদাহরণ। কর্মব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার জন্য সুষম ও প্রাকৃতিক খাবারের গুরুত্ব যে কতটা, এই বিশেষ মেনু যেন সেই বার্তাই তুলে ধরে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?