ভয়াল দুর্যোগে কাঁপছে উত্তরকাশী, উদ্বিগ্ন উর্বশী রৌতেলা বললেন!
উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় হঠাৎ করে প্রকৃতির রূপ বদলে গিয়েছে। একদিকে মেঘভাঙা বৃষ্টি, অন্যদিকে পাহাড় থেকে ধেয়ে আসা হড়পা বান—সব মিলিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। ধ্বংসের মুখে পড়েছে ধরালী গ্রাম সহ আশপাশের অঞ্চলগুলি। নদীর ভয়ানক স্রোতে ভেসে যাচ্ছে বাড়িঘর, রাস্তা, দোকান, বহু মানুষের স্বপ্ন। এই দুর্যোগের মধ্যেই অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন উত্তরাখণ্ডেরই মেয়ে, অভিনেত্রী উর্বশী রৌতেলাকে নিয়ে। তিনিই এই ভয়াবহ ঘটনার পর নিজেই জানালেন, তিনি ঠিক আছেন, তবে যে যন্ত্রণায় তাঁর প্রিয় মানুষগুলো ভুগছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
উর্বশীর শিকড় এই উত্তরাখণ্ডেই, হরিদ্বারে তাঁর শৈশব। তাই উত্তরকাশীর এই দুর্যোগ তাঁর হৃদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, “হরিদ্বারের মেয়ে আমি। উত্তরাখণ্ডের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি মানুষের মধ্যে আমি নিজের আত্মার খোঁজ পাই। উত্তরকাশীতে যা ঘটেছে, তা দেখে আমি ভীষণ মর্মাহত। মনটা যেন থমকে গিয়েছে।”
এই ভয়াবহ বন্যা ও মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ক্ষীরগঙ্গা নদীর উচ্চ অববাহিকায় বিপুল জলস্রোত নেমে আসে। পাহাড় থেকে নামা এই স্রোত নিচু গ্রামগুলিতে গিয়ে প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতি করে। ধরালী গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকা কার্যত জলের তলায় চলে যায়। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। গঙ্গোত্রীর সঙ্গে রাস্তাঘাট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ আটকে রয়েছেন পাহাড়ি গ্রামে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এই সময়েই উর্বশী জানান, তিনি শুধু নিজের সুরক্ষা নিয়েই ভাবছেন না, বরং তাঁর মন পড়ে রয়েছে দুর্গত এলাকাগুলোর মানুষের জন্য। তিনি বলেন, “ধরালীর মানুষ একা নন। আমি তাঁদের পাশে আছি। যতটুকু পারি, ততটাই সাহায্যের চেষ্টা করব। শুধু আমি নই, আমি চাই সারা বিশ্বের মানুষ এই মুহূর্তে উত্তরাখণ্ডের পাশে দাঁড়াক।”
উর্বশী তাঁর অনুরাগীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন, এই দুর্যোগে যেন সকলে একজোট হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “মানবতার জন্য এখনই সময় একসাথে কাজ করার। কেউ যাতে একা না পড়ে, সেই দায় আমাদের সকলের।”
এই মুহূর্তে যেখানে চারধার জুড়ে শুধুই ভয়, আতঙ্ক আর অন্ধকার, সেখানে উর্বশীর মতো একজন তারকার এই সংবেদনশীল বক্তব্য এবং পাশে থাকার বার্তা যেন একটু আশার আলো দেখাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
উত্তরাখণ্ড এখন প্রকৃতির এক নির্মম খেলায় বিপর্যস্ত। ঠিক এই সময়ে উর্বশীর মতো কণ্ঠস্বর গর্জে উঠে বলছে—”আমি আছি, আমরা আছি”—এটাই মানুষকে নতুন করে বাঁচার সাহস জোগাচ্ছে।
সবশেষে, অভিনেত্রী জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ডের মানুষজনের জন্য সাহায্য পাঠানোর মতো কোনও সুযোগ পেলেই তিনি নিজে উদ্যোগ নেবেন এবং সকলকেও আহ্বান জানিয়েছেন এই দুর্দিনে সামিল হতে।
দোকানের মশলার বদলে ঘরেই বানিয়ে নিন মাংসের স্বাদ বাড়ানোর জাদুমন্ত্র