মৃত ব্যক্তির নাম আবাস তালিকায়!
মালদা, হরিশ্চন্দ্রপুর: এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় এমন কিছু নাম উঠে এসেছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, মৃত ব্যক্তির নামও জায়গা পেয়েছে এই তালিকায়। ঘটনাটি সামনে আসার পর জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় কীভাবে?
এই ঘটনা ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইরা গ্রামে। তালিকায় নাম রয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা কোহিনূর বেগমের স্বামী আহমেদ হাসান এবং ভাশুর মেহেদি হাসানের। বড় প্রশ্ন হল, মেহেদি হাসান দুই বছর আগেই মারা গেছেন। তবু কীভাবে তাঁর নাম তালিকায় স্থান পেল?
এলাকার বাসিন্দা রাজীব মিঞার অভিযোগ, প্রথম সার্ভেতে তাঁর নাম ছিল, কিন্তু পরবর্তী চূড়ান্ত তালিকা থেকে তা বাদ পড়েছে। অথচ, যাঁদের পাকা বাড়ি রয়েছে, তাঁদের নাম বহাল তবিয়তে তালিকায় রয়েছে। তিনি লিখিতভাবে এই বিষয়টি ব্লক দফতরে জানিয়েছেন।
তৃণমূলের দাবি ও পাল্টা অভিযোগ
পঞ্চায়েত সদস্যা কোহিনূর বেগমের স্বামী আহমেদ হাসান দাবি করেছেন, তাঁর বাড়ি টিনের, তাই তাঁর নাম তালিকায় থাকা স্বাভাবিক। তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ধরমা মণ্ডল বলেছেন, “মৃত ব্যক্তির নাম পুরনো তালিকায় থাকতে পারে। এটি ভুলবশত ঘটেছে। তবে, কারও পাকা বাড়ি না থাকলে তালিকায় নাম থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।”
অন্যদিকে, জেলা বিজেপি সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল এই ঘটনায় সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “সার্ভে হয়ে যাওয়ার পরও মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকা অস্বাভাবিক। এটি নিশ্চিতভাবেই দুর্নীতি।”
জেলাশাসকের পদক্ষেপ
সমগ্র ঘটনার জেরে মালদার জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিডিও-কে বলা হয়েছে সার্ভের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে।
আবাস যোজনা নিয়ে বিতর্কের ইতিহাস
এটি প্রথম নয়, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তালিকায় অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি উলুবেড়িয়ার একটি গ্রামে আবাস যোজনা তালিকা ঘিরে মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিরোধ থেকে এক ব্যক্তি খুন হন। সন্দেহ করা হচ্ছে, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র চাপানউতোর চলছে। বিজেপি এই ঘটনাকে তৃণমূলের দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং এর সঙ্গে দুর্নীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন। এক বাসিন্দা বলেছেন, “আমাদের টিনের বাড়ি থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ গেল, আর যাঁদের পাকা বাড়ি, তাঁদের নাম রইল! এটাই কী ন্যায্যতা?”
পরবর্তী পদক্ষেপ
জেলাশাসকের তদন্তে কী উঠে আসে, তা এখন দেখার বিষয়। এই ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
সার্বিকভাবে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু প্রশাসনিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে এক বড় ধাক্কা। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত প্রাপকদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।