মৃত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: ১৮৭২ সালের আমেরিকার ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ১৮৭২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম ব্যতিক্রমী এক অধ্যায়। সেই সময়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস. গ্রান্টের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হোরেস গ্রিলি, যিনি নিউইয়র্ক ট্রিবিউনের প্রতিষ্ঠাতা এবং গ্রান্টের…

November 6, 2024
1 min read

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

১৮৭২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম ব্যতিক্রমী এক অধ্যায়। সেই সময়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস. গ্রান্টের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হোরেস গ্রিলি, যিনি নিউইয়র্ক ট্রিবিউনের প্রতিষ্ঠাতা এবং গ্রান্টের অন্যতম সমালোচক। এটি সেই ঘটনা, যখন একজন জীবিত প্রার্থী, ইউলিসিস গ্রান্ট, লড়াই করেছিলেন তাঁর প্রয়াত প্রতিদ্বন্দ্বী হোরেস গ্রিলির বিপরীতে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ইলেক্টোরাল কলেজের নিয়ম

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পপুলার ভোটের মাধ্যমে সরাসরি জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় না; বরং প্রতিটি প্রদেশের ইলেক্টোরাল ভোট এই সিদ্ধান্ত নেয়। দেশটির ৫০টি প্রদেশের মধ্যে কোনো প্রার্থী একটি প্রদেশে জয়ী হলে সেই প্রদেশের সব ইলেক্টোরাল ভোট তার পক্ষে চলে আসে। মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোটের মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তার বেশি ভোট পায়, তিনিই নির্বাচিত হন।

১৮৭২ সালের নির্বাচনে গ্রান্ট পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন গ্রিলি, যিনি রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে লিবারেল রিপাবলিকান নামে একটি দল গঠন করেন এবং প্রেসিডেন্ট গ্রান্টের কট্টর সমালোচক ছিলেন।

মৃত প্রতিদ্বন্দ্বী: গ্রিলির আকস্মিক মৃত্যু

নির্বাচনের কিছুদিন পরই গ্রিলি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পপুলার ভোটগ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, ১৮৭২ সালের ২৯ নভেম্বর, তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু নির্বাচন ব্যবস্থাকে গভীর চ্যালেঞ্জে ফেলে। আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটে, যখন একজন মৃত প্রার্থীর হয়ে ভোট গণনা করতে হয়।

ইলেক্টোরাল কলেজের বিভ্রান্তি

গ্রিলির মৃত্যুর পর ইলেক্টোরাল কলেজ একটি জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। মৃত প্রার্থীর পক্ষে কিভাবে ইলেক্টোরাল ভোট পরিচালনা করা হবে, এ বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রাথমিকভাবে গ্রিলির কিছু ইলেক্টোরাল ভোট ছিল, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর ফলে সেই ভোটগুলি কাকে প্রদান করা হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে গ্রিলির জন্য নির্ধারিত ইলেক্টোরাল ভোটগুলো বিভিন্ন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। তবে এটি গ্রান্টের বিজয়ে কোনো প্রভাব ফেলেনি, কারণ তিনি ইলেক্টোরাল কলেজে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিলেন।

এই ঘটনার তাৎপর্য

১৮৭২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আমেরিকান রাজনীতির ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা, যা প্রমাণ করে যে নির্বাচন পরিচালনায় কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামনে আসতে পারে। মৃত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি নির্বাচনের ইতিহাস বিশ্ব রাজনীতিতেও এক বিরল উদাহরণ।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *