শুল্ক-ঘূর্ণিতে ট্রাম্প প্রশাসন!!
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আইনি জটিলতায়। সম্প্রতি এক আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাম্প্রতিক শুল্কনীতি ছিল ‘ক্ষমতা-বহির্ভূত’। তবে ট্রাম্প ও তার প্রশাসন হার মানতে নারাজ—আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কনীতি: কোথা থেকে শুরু?
গত ২ এপ্রিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, বিদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র যতটা শুল্ক দেয়, আমেরিকাও সেই দেশের রফতানিপণ্যে ঠিক ততটাই শুল্ক চাপাবে। উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকার স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। এই নীতির আওতায় ভারতসহ একাধিক দেশের পণ্যে ১০% থেকে ২৬% পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়।
যদিও এর পিছনে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল—এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় জরুরি সিদ্ধান্ত। প্রেসিডেন্ট ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট, ১৯৭৭’–এর অধীনে এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে দাবি করা হয়।
আদালতের জবাব: ক্ষমতার সীমা মানতে হবে
তবে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত এই যুক্তি মানেনি। তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল জানায়, এই আইন প্রেসিডেন্টকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের অধিকার দেয়, শুল্ক বসানোর মতো ব্যাপক ক্ষমতা নয়। আদালতের মতে, শুল্ক পরিবর্তন বা আরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত, এককভাবে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে নয়।
এই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে—ট্রাম্প প্রশাসন আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভারসাম্যের পরিপন্থী।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া: হাল ছাড়ছেন না
এই রায়ের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি কুশ দেশাই বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে সাড়া দেওয়া হবে, তা আদালত নয়, প্রেসিডেন্ট ঠিক করবেন।” এর মানে, প্রশাসন মনে করছে এই রায় প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ।
এছাড়া ট্রাম্প সমর্থকেরা এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিহিত করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
আদালতের রায়: মার্কেটের পালে হাওয়া
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরে মার্কিন ডলার মজবুত হয়েছে। ইউরো, ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের তুলনায় ডলারের মান বেড়েছে। একই সঙ্গে শেয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক আমদানি-নির্ভর কোম্পানি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, যারা শুরু থেকেই এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিল।
শেষ কথা
এই রায় শুধু ট্রাম্পের জন্য নয়, ভবিষ্যতের যেকোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহারের সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল। হোয়াইট হাউস আপিল করলেও, আদালতের পর্যবেক্ষণ আমেরিকার প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বড় সুর বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৭৫-এ সুদৃঢ়, জিমে ঝড় তুলছেন রাকেশ রোশন! ফিট থাকার ৭টা সিক্রেট এক্সারসাইজ