মালদায় রেশন দুর্নীতি: ৪০০০-এরও বেশি ভুয়ো রেশন কার্ড তৈরি করে চাঞ্চল্য, তদন্তে খাদ্য দফতর

মালদা জেলার কালিয়াচকের বাবুর বোনা এলাকায় রেশন দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। অভিযোগ, গত ১১ বছর ধরে (২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত) এক রেশন ডিলার সাইফুদ্দিন আহমেদ চার…

December 17, 2024
0 min read

মালদা জেলার কালিয়াচকের বাবুর বোনা এলাকায় রেশন দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। অভিযোগ, গত ১১ বছর ধরে (২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত) এক রেশন ডিলার সাইফুদ্দিন আহমেদ চার হাজারেরও বেশি ভুয়ো রেশন কার্ড তৈরি করেছেন এবং সেগুলির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ করেছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ


গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অনিয়ম চলছিল। সরকারি সুবিধা পাওয়ার নামে ভুয়ো রেশন কার্ড তৈরি করে, খাদ্য সামগ্রী অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছিল বলে দাবি গ্রামবাসীদের। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইতিমধ্যে মালদার জেলাশাসকের কাছে এই দুর্নীতির অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্তের অস্বীকার


অভিযোগের তীর সরাসরি সাইফুদ্দিন আহমেদের দিকে উঠলেও, তাঁর পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সাইফুদ্দিনের ছেলে দাবি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তবে তদন্ত শুরু হওয়ায় প্রকৃত সত্য শীঘ্রই সামনে আসবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া


বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছে। তাদের অভিযোগ, রেশন দুর্নীতির পেছনে শুধু ডিলার নন, খাদ্য দফতরের একাংশ আধিকারিকরাও জড়িত। বিজেপির এক স্থানীয় নেতা বলেছেন, “এই দুর্নীতি বছরের পর বছর ধরে চলছে। সঠিক তদন্ত হলে অনেক বড় নাম উঠে আসবে।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যের খাদ্য দফতর ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্য দফতরের মন্ত্রী।

আগের ঘটনাগুলির পুনরাবৃত্তি


এটি প্রথমবার নয়, কিছুদিন আগেই মালদায় তৃণমূলের এক অঞ্চল সভাপতির রেশন ডিলারশিপ সাসপেন্ড করেছিল খাদ্য দফতর। অভিযোগ ছিল, তিনি ভুয়ো রেশন কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী আত্মসাৎ করেছেন। সেইসঙ্গে তাঁকে প্রায় ৮ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। যদিও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

এই ধরণের একের পর এক ঘটনা মালদা এবং আশপাশের এলাকাগুলিতে রেশন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবকে সামনে এনে দিয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি


মালদার জেলাশাসক ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে খাদ্য সরবরাহ দফতরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “অভিযোগ গুরুতর। তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনিয়মের কোনো জায়গা নেই।”

নাগরিক প্রতিক্রিয়া


স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই দুর্নীতির কারণে প্রকৃত উপভোক্তারা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলির মধ্যে যাঁরা প্রকৃতপক্ষে রেশনের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য এটি বড় ধাক্কা।

একজন গ্রামবাসী বলেন, “যারা ভুয়ো রেশন কার্ড বানিয়েছে, তারা নিজেরা লাভবান হয়েছে। কিন্তু আমরা যারা প্রকৃত সুবিধাভোগী, তারা চরম অসুবিধায় পড়েছি।”

ফেক কার্ড চক্রের বিস্তার


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ভুয়ো রেশন কার্ড তৈরি চক্র কেবল একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে এমন চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। কিছু অসাধু রেশন ডিলার এবং প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে এই দুর্নীতি দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।

উপসংহার


এই ঘটনায় তদন্তের ফলাফল কী হয়, তার দিকে তাকিয়ে গোটা মালদা জেলা। দুর্নীতির শিকড়ে কুঠারাঘাত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলছেন এলাকাবাসী। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপই পারে এই ধরণের অনিয়ম বন্ধ করতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

মালদার এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট, রেশন দুর্নীতি শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়; বরং এটি গোটা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার প্রশ্নকে তুলে ধরেছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন রাজ্যের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *