রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধিদের মুজফ্ফরাবাদে নিয়ে গেল পাকিস্তান!
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফ্ফরাবাদ এখন আন্তর্জাতিক চোখের কেন্দ্রে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জেরে পাকিস্তান যে কড়া ধাক্কা খেয়েছে, তা আর অস্বীকারের জায়গায় নেই। তবে এবার অস্ত্রের হুঙ্কার ছেড়ে আবেগের সুরে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায়ের খেলায় নামল ইমরান-পরবর্তী পাক সরকার।
ভারত দাবি করেছে, তাদের নিশানা ছিল সুনির্দিষ্ট জঙ্গি ঘাঁটি। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পাল্টা হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু ইসলামাবাদ বলছে, এই হামলা সাধারণ নাগরিকদের উপর হয়েছে। সেই দাবি প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধিদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে মুজফ্ফরাবাদে—পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানীতে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধিদের নিয়ে যাওয়া হয় সেইসব এলাকাতেই, যেগুলিকে জঙ্গি ঘাঁটি বলে দাবি করেছিল ভারত। দেখানো হয় স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসা। আরেকটি ‘নাটকীয় পর্ব’—স্থানীয়দের দিয়ে বলানো হয়, এই জায়গাগুলিতে কোনও জঙ্গি ঘাঁটির অস্তিত্ব নেই। অথচ, এটাই সেই অঞ্চল যেখানে একসময় ২৬/১১ হামলার জঙ্গি আজমল কসাবের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। এখান থেকেই পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল লশকরের ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’।
এই প্রচেষ্টার পিছনে পাকিস্তানের কৌশলটা একেবারে স্পষ্ট—আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহানুভূতি আদায় করে ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি। এরই অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকে একের পর এক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। চিনের রাষ্ট্রদূত চিয়াং জাইতোং থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান—সবাইকে পাশে পাওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত ইসলামাবাদ।
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘‘ভারত ভুল করেছে। আমরা এর যোগ্য জবাব দিয়েছি।’’ তবে তার আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধিদের নিয়ে গিয়ে প্রমাণের মতো কিছু ‘দৃশ্য’ তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে।
পাক সেনার তরফে অবশ্য নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানানো হয়েছে। আইএসপিআর-এর প্রধান জেনারেল আহমেদ শরিফ জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছেন। যদিও এদের মধ্যে কতজন জঙ্গি আর কতজন সাধারণ নাগরিক, সেই তথ্য স্পষ্ট নয়।
একদিকে পাকিস্তান বলছে তারা ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে দেয়নি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে দেখাতে চাইছে—ভারত হামলা করেছে অসামরিক এলাকায়।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—আসল সত্যটা কী? আদৌ কি জঙ্গি ঘাঁটির পাশে সাধারণ বসতি ছিল, না কি সেই ঘাঁটির আড়ালে মানবঢাল বানানো হয়েছিল?
একই ঘটনায় দুই বিপরীত বর্ণনা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মহলের বিচার গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের পক্ষ বলছে, তারা কেবলমাত্র নির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতেই হামলা চালিয়েছে, যেখানে পাকিস্তান বহুদিন ধরেই জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইছে—এই অভিযানে তারা ‘অসহায় শিকার’—এই ভাবমূর্তিটি তুলে ধরতে।
এই মুহূর্তে শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক লড়াইও তুঙ্গে। এখন দেখার, রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি দল কী দেখে, এবং তার প্রতিবেদন কীভাবে প্রভাব ফেলে এই দুই দেশের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির উপর।
অপারেশন সিঁদুর: ভারতীয় প্রতিআক্রমণে মাসুদ আজ়হারের বোন-সহ পরিবারের ১০ জন নিহত