মানতে চাননি পিতৃত্ব, তবু মেয়ের নামেই কোটি টাকার প্রকল্পের নাম! স্টিভ জোবসের অজানা অধ্যায়

মানতে চাননি পিতৃত্ব, তবু মেয়ের নামেই কোটি টাকার প্রকল্পের নাম! অ্যাপ্‌লের জনক স্টিভ জোবস — যাঁর মেধা ও দূরদর্শিতা বদলে দিয়েছে প্রযুক্তির জগৎ। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একেবারে অন্য…

October 27, 2025
1 min read

মানতে চাননি পিতৃত্ব, তবু মেয়ের নামেই কোটি টাকার প্রকল্পের নাম!

অ্যাপ্‌লের জনক স্টিভ জোবস — যাঁর মেধা ও দূরদর্শিতা বদলে দিয়েছে প্রযুক্তির জগৎ। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একেবারে অন্য মানুষ। নিজের প্রথম কন্যাসন্তান লিজ়া ব্রেনান-জোবস–এর পিতৃত্ব একসময় মানতেই চাননি এই প্রতিভাবান উদ্যোক্তা। অথচ পরবর্তীতে মেয়ের নামেই তৈরি হয় অ্যাপ্‌লের কোটি টাকার প্রকল্প— ‘LISA’।


💔 পিতৃত্ব অস্বীকার থেকে ভালোবাসার স্বীকৃতি পর্যন্ত

১৯৭২ সালে স্টিভ জোবসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর সহপাঠিনী ক্রিস্যান ব্রেনানের। কয়েক বছর পর তাঁদের জীবনে আসে কন্যাসন্তান লিজ়া। কিন্তু জন্মের পরও জোবস মেয়েকে নিজের বলে মানেননি। এমনকি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলও তিনি অগ্রাহ্য করেন, দাবি করেন পরীক্ষাটি ভুল হতে পারে।

বছরঘটনাগুরুত্বপূর্ণ দিক
১৯৭২জোবস ও ক্রিস্যানের প্রেম শুরুকলেজজীবনে সম্পর্কের সূচনা
১৯৭৮লিজ়ার জন্মস্টিভের অনুপস্থিতিতে জন্ম
১৯৮৩পিতৃত্ব পরীক্ষা প্রকাশ্যে আসেতবুও জোবস স্বীকার করেননি
১৯৮৪অ্যাপ্‌লের প্রকল্প ‘LISA’ আত্মপ্রকাশমেয়ের নামেই প্রযুক্তি প্রকল্প

জোবসের এই ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘ লড়াই চালান ক্রিস্যান। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ায় মেয়ের পিতৃত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হন স্টিভ।


💻 লিজ়ার নামে কোটি টাকার প্রকল্প

অ্যাপ্‌লে জোবসের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল এক অনন্য প্রকল্প — একটি গ্রাফিক্যাল ডেস্কটপ ও আইকন-ভিত্তিক পার্সোনাল কম্পিউটার। নাম রাখা হয় ‘LISA’, যার বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ কোটি ডলার। আশ্চর্যের বিষয়, যে মেয়ের পিতৃত্ব তিনি স্বীকার করেননি, তাঁর নামেই এই প্রকল্প।
তবে ‘Lisa Computer’ বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি, পরবর্তীতে Macintosh–এর ভিত্তি হয়ে ওঠে এই প্রযুক্তি।
👉 অ্যাপ্‌লের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পড়ুন ‘Lisa’ প্রকল্পের ইতিহাস।


🧠 সম্পর্কের জটিলতা ও পুনর্মিলন

লিজ়ার আত্মজীবনী “Small Fry”–তে প্রকাশ পায় বাবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও বেদনা দুই-ই। জোবসের কঠোর আচরণ, অনাদর এবং পরবর্তীতে অনুতাপ—সবই সেখানে স্পষ্ট। মৃত্যুর আগে স্টিভ মেয়েকে বলেন,

“আমি বহু জন্মদিন মিস করেছি, বহু সময় তোমার পাশে ছিলাম না… ক্ষমা করো।”

তবুও লিজ়া কখনও ভেঙে পড়েননি। হার্ভার্ড ও কিংস কলেজে পড়াশোনা করে নিজেকে গড়ে তোলেন সফল লেখিকা হিসেবে।


📖 আজও অনুপ্রেরণা লিজ়া-স্টিভ সম্পর্ক

স্টিভ জোবসের জীবনের এই অধ্যায় শেখায়—মেধা যতই উজ্জ্বল হোক, মানবিকতা ছাড়া তা অসম্পূর্ণ। প্রযুক্তির জগতে ‘LISA’ প্রকল্প ব্যর্থ হলেও, মেয়ের নামেই গড়ে ওঠা এই ইতিহাস আজও মানবসম্পর্কের জটিলতার প্রতীক।


🔗 আরও পড়ুন:


উপসংহার:
স্টিভ জোবসের জীবনে LISA শুধু এক প্রযুক্তি নয়, এক অস্বীকার করা সম্পর্কের প্রতীক। যেখানে পিতৃত্ব, ভালোবাসা আর অনুশোচনার গল্প একাকার হয়ে গেছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *