মাটি, সূর্য আর বিজ্ঞান— সোনম ওয়াংচুকের পরিবেশবান্ধব বাড়ি যেন ভবিষ্যতের স্থাপত্যের নকশা

সোনম ওয়াংচুকের পরিবেশবান্ধব বাড়ি যেন ভবিষ্যতের স্থাপত্যের নকশা! 'লাদাখ' বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বরফে ঢাকা পাহাড় আর কঠিন আবহাওয়া। সেই প্রতিকূল পরিবেশেই প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে এমন একটি বাড়ি…

July 29, 2026
1 min read

সোনম ওয়াংচুকের পরিবেশবান্ধব বাড়ি যেন ভবিষ্যতের স্থাপত্যের নকশা!

‘লাদাখ‘ বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বরফে ঢাকা পাহাড় আর কঠিন আবহাওয়া। সেই প্রতিকূল পরিবেশেই প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে এমন একটি বাড়ি তৈরি করেছেন শিক্ষাবিদ ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক, যা আজ টেকসই স্থাপত্যের অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচনায়। বিজ্ঞান, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর এই বাড়ি দেখলে বোঝা যায়— আধুনিক প্রযুক্তি মানেই সব সময় কংক্রিট আর যন্ত্র নয়।

দিল্লিতে দীর্ঘ আন্দোলন শেষে ওয়াংচুক ফিরছেন লাদাখের ফ্যাং উপত্যকায়, যেখানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অল্টারনেটিভস, লাদাখ (HIAL) অবস্থিত। স্থানীয় মাটি ও প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি এই ক্যাম্পাসে গবেষণার পাশাপাশি পর্যটকদের থাকার জন্যও রয়েছে বিশেষভাবে নির্মিত পরিবেশবান্ধব ঘর।

এই বাড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল, লাদাখের তীব্র শীতেও আলাদা করে হিটার ব্যবহার করতে হয় না। ঘরের নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে প্যাসিভ সোলার প্রযুক্তি। বিশেষ ধরনের কালো কাচের দেওয়ালের পিছনে জলে ভরা বোতল রাখা থাকে। দিনের বেলায় সূর্যের তাপে জল গরম হয় এবং রাতে ধীরে ধীরে সেই তাপ ঘরের ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অতিরিক্ত জ্বালানি ছাড়াই ঘর উষ্ণ থাকে।

শুধু তাপ সংরক্ষণ নয়, জলের সাশ্রয়েও রয়েছে অভিনব ব্যবস্থা। লাদাখে জলের অভাবের কথা মাথায় রেখে এখানে এমন শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে যেখানে ফ্লাশের প্রয়োজন হয় না। ব্যবহার শেষে জলের বদলে বালি ও মাটির মিশ্রণ দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে সেই জৈব বর্জ্য সারে পরিণত হয়, যা কৃষিকাজেও কাজে লাগে। প্রস্রাব আলাদা পথে সংগ্রহ করে উদ্ভিদের জন্য পুষ্টি তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

রান্নাঘরেও রয়েছে কম জ্বালানিতে কাজ করার পরিকল্পনা। আধুনিক সুবিধা বজায় রেখেও এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে শক্তির অপচয় কম হয়। খাবার ঘরে লাদাখের ঐতিহ্যবাহী নিচু টেবিল ও বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানায়।

ওয়াংচুকের মতে, ভবিষ্যতের স্থাপত্যে স্থানীয় উপকরণ, প্রাকৃতিক শক্তি এবং মানুষের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই HIAL-এ প্রতি বছর Sun & Earth Festival আয়োজন করা হয়, যেখানে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে ওয়াংচুকের বাড়ি শুধু একটি বাসস্থান নয়, বরং ভবিষ্যতের টেকসই জীবনযাত্রার একটি কার্যকর মডেল। স্থানীয় সম্পদ, বিজ্ঞান এবং প্রকৃতির সমন্বয়ে যে আরামদায়ক ও আধুনিক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে লাদাখের এই অভিনব বাড়ি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *