মহিলাদের টেনিসে এ বার লিঙ্গ পরীক্ষা!
মহিলা টেনিস খেলোয়াড়দের অন্তত এক বার এসআরওয়াই জিন পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডব্লিউটিএ। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জৈবিক লিঙ্গ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে। সংস্থার সিদ্ধান্তকে ঘিরে টেনিসমহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মহিলাদের টেনিস সংস্থা (ডব্লিউটিএ) সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের অন্তত এক বার এসআরওয়াই জিন পরীক্ষা করাতে হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় জৈবিক ভাবে মহিলা কি না, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়। সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই টেনিসমহলে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কেউ ডব্লিউটিএ-র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ এটিকে পক্ষপাতমূলক এবং অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন।
এই পরীক্ষার জন্য ঘাম অথবা রক্তের নমুনা ব্যবহার করা যেতে পারে। ডব্লিউটিএ-র কোনও প্রতিযোগিতায় খেলতে হলে খেলোয়াড়দের অন্তত এক বার এই পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক হবে।
তবে ‘স্পোর্টস অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স’ ডব্লিউটিএ-কে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। সংস্থার মুখ্যকর্তা আন্দ্রিয়া ফ্লোরেন্সের মতে, লিঙ্গ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত মহিলা খেলোয়াড়দের মধ্যে অস্বস্তি ও ভয় তৈরি করতে পারে। তাঁর বক্তব্য, ডব্লিউটিএ কারও ক্ষতি করতে না চাইলেও এই ধরনের পরীক্ষার প্রভাব নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
সাবালেঙ্কার সমর্থন, ভিন্ন মত গফের
বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কা অবশ্য ডব্লিউটিএ-র সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, মহিলাদের টেনিসে স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জৈবিক ভাবে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে শারীরিক পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাই জৈবিক ভাবে পুরুষ কোনও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে মহিলা খেলোয়াড়দের যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এই পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবালেঙ্কা।
অন্য দিকে, কোকো গফ এই বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, লিঙ্গ পরীক্ষা চালু করা হলে রূপান্তরিত সম্প্রদায়ের কাছে তা নেতিবাচক বার্তা পাঠাতে পারে।
ফলে ডব্লিউটিএ-র নতুন সিদ্ধান্তকে ঘিরে টেনিসে এখন এক দিকে প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন, অন্য দিকে খেলোয়াড়দের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয় সামনে এসেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।