বাংলার টেনিসে নতুন ভরসা, আকাঙ্ক্ষা ঘোষের পাশে রাজ্য সরকার!
বাংলার উদীয়মান টেনিস প্রতিভা আকাঙ্ক্ষা ঘোষের জন্য বড় স্বস্তির খবর। প্রথমবারের মতো কোনও ব্যক্তিগত ক্রীড়া ইভেন্টের খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর ফলে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের উল্লেখযোগ্য খরচ বহন করবে সরকার, যা আকাঙ্ক্ষার কেরিয়ারে নতুন গতি আনতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই মেয়ের টেনিস কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে বিপুল আর্থিক চাপের মুখে ছিলেন আকাঙ্ক্ষার বাবা সুরজিৎ ঘোষ। জাতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পর তিনি রাজ্য সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনেই ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।
এই সুখবর প্রথম জানতে পেরে আবেগাপ্লুত সুরজিৎ জানান, আগের সরকারের কাছেও দু’বার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনও সহায়তা পাননি। নতুন সরকারের এই উদ্যোগে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পৌঁছায়নি, তাই কতটা আর্থিক সহায়তা মিলবে তা স্পষ্ট নয়। তবু তিনি আশাবাদী, এই সহযোগিতা মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সুরজিৎ বলেন, প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের একটা পর্যায়ের পর আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন। তাঁর মতে, সরকার যদি এভাবেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে বাংলার আরও অনেক প্রতিভা হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচবে এবং ভবিষ্যতে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করবে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই আকাঙ্ক্ষা ঘোষ ইতিমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে রাজ্য চ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতেছেন। জাতীয় বয়সভিত্তিক টেনিসেও সিঙ্গলস ও ডাবলস— দুই বিভাগেই একাধিক সাফল্য রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। সম্প্রতি তিনি নিজের কেরিয়ারের প্রথম ডব্লিউটিএ (WTA) পয়েন্টও অর্জন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক টেনিসে তাঁর অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
গত দু’বছর ধরে রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে চলেছেন আকাঙ্ক্ষা। খুব শিগগিরই দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেই সফরের আগে রাজ্য সরকারের এই সহায়তা শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, মানসিক আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে বলে মনে করছেন ক্রীড়ামহলের একাংশ।
বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামোয় এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দলগত খেলাধুলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদেরও নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া গেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে। আকাঙ্ক্ষা ঘোষের ক্ষেত্রে রাজ্যের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্য প্রতিশ্রুতিমান ক্রীড়াবিদদের জন্যও নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?