৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মহারণ জিতে ইতিহাস জোকোভিচের!
বয়স প্রায় ৪০ ছুঁইছুঁই। তবু বড় মঞ্চে নোভাক জোকোভিচ যে এখনও সমান ভয়ঙ্কর, তার আরও এক প্রমাণ মিলল উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে। পাঁচ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের ম্যারাথন লড়াই শেষে কানাডার ফেলিক্স অগার-আলিয়াসিমেকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। একই সঙ্গে গড়লেন নতুন ইতিহাস। এটি উইম্বলডনের কোয়ার্টার ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ম্যাচ।
শ্বাসরুদ্ধকর পাঁচ সেটের লড়াইয়ে জোকোভিচ জেতেন ৭-৬ (টাইব্রেক), ৩-৬, ৬-৩, ৬-৭ (টাইব্রেক), ৭-৬ (টাইব্রেক)। ম্যাচের তিনটি সেটই গড়ায় টাইব্রেকারে, যা লড়াইয়ের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় খেলার জোরেই জয় ছিনিয়ে নেন ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী।
সেমিফাইনালে জোকোভিচের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। শুক্রবার সেন্টার কোর্টে তাঁর প্রতিপক্ষ বিশ্বের এক নম্বর ইয়ানিক সিনার। ইতালির এই তারকা নিজের কোয়ার্টার ফাইনালে জাঁ-লেনার্ড স্ট্রাফকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছেন। ফলে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলির একটি দেখার অপেক্ষায় টেনিসপ্রেমীরা।
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, “আজ একটা র্যাকেট আর হৃদয়ের জোরেই ম্যাচটা জিতেছি। এত বছর খেলতে খেলতে শিখেছি, এমন চাপের মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে হয়। শেষ পর্যন্ত যে কেউ জিততে পারত। এই ধরনের ম্যাচ খেলতেই এখনও টেনিস কোর্টে নামি।”
পারিবারিক এক আবেগঘন মুহূর্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জোকোভিচ বলেন, “আমি ছেলেমেয়েদের ঘুমিয়ে পড়তে বলেছিলাম। কিন্তু ওরা জেগে থেকে পুরো ম্যাচ দেখেছে। এটা আমাকে খুব আবেগপ্রবণ করেছে। আমার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচের সাক্ষী ওরাও থাকল।”
এই জয়ের ফলে ১৫তম বার উইম্বলডনের সেমিফাইনালে উঠলেন জোকোভিচ। পাশাপাশি এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৫৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সেমিফাইনাল, যা ওপেন যুগের অন্যতম সেরা কৃতিত্ব। ৩৯ বছরের বেশি বয়সে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে ওঠার তালিকায় তিনি এখন দ্বিতীয় স্থানে। তাঁর আগে রয়েছেন শুধু অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি কেন রোজওয়াল, যিনি ১৯৭৪ সালে আরও বেশি বয়সে শেষ চারে উঠেছিলেন।
এখন সকলের নজর জোকোভিচ বনাম সিনারের মহারণে। অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে তারুণ্য— উইম্বলডনের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এই দ্বৈরথ যে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?