মমতার বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি, দু’ঘণ্টার অভিযানের পরও কিছু বাজেয়াপ্ত হয়নি বলে দাবি

মমতার বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি! সই-জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল। এই কার্যালয়টি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের…

June 10, 2026
1 min read

মমতার বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি!

সই-জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল। এই কার্যালয়টি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সঙ্গেই অবস্থিত। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর সিআইডি সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। তবে তৃণমূলের দাবি, তদন্তকারী সংস্থা কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেনি।

মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির সঙ্গে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যেরাও কালীঘাটে পৌঁছন। তবে শুরুতেই কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি তারা। তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ ও প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী সিআইডির প্রবেশে আপত্তি জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই দিল্লিতে রয়েছেন, তাই তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারেন না।

সিআইডি জানায়, তারা নির্দিষ্ট তদন্তের স্বার্থে এসেছে এবং আইন মেনেই তল্লাশি চালাতে চায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো নোটিসও দেখানো হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর বিকেল চারটার কিছু পরে তদন্তকারীরা অবশেষে কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি পান।

এই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তথাকথিত ‘সই-কাণ্ড’। অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে কয়েক জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। সেই চিঠি পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে বৈঠকে ওই স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে দাবি, সেটি হয়েছিল কালীঘাটের এই কার্যালয়েই।

তদন্তকারীরা মূলত জানতে চেয়েছেন, সেই বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কীভাবে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনও তথ্য রয়েছে কি না। সূত্রের খবর, কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিনে সিআইডির আর একটি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও যায়। তাঁকে এদিন বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অতীতের মতো এবারও তিনি হাজিরা এড়িয়ে সময় চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রায় দু’ঘণ্টা তল্লাশির পর সিআইডির দল কার্যালয় ছেড়ে বেরিয়ে গেলে শুভাশিস চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, “তদন্তকারীরা এসেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে কোনও নথি বা সামগ্রী তাঁরা নিয়ে যাননি।”

পরে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও কার্যালয়ে পৌঁছে বলেন, দল তদন্তে সহযোগিতা করছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে তাঁর বাড়ি-সংলগ্ন কার্যালয়ে তল্লাশি চালানোকে তিনি “দৃষ্টিকটু” বলে মন্তব্য করেন। একই সুরে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

সই-কাণ্ডের তদন্ত এখন কোন দিকে এগোয় এবং সিআইডি এই তল্লাশি থেকে কী তথ্য সংগ্রহ করেছে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *