মদনকে শো কজ়, কল্যাণ নিস্তার—তৃণমূলে ‘দ্বৈত’ মানদণ্ড ঘিরে বিতর্ক

মদনকে শো কজ়, কল্যাণ নিস্তার? কসবা ল কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার পর বিতর্কিত মন্তব্য করে শাসক তৃণমূলের দু’জন হেভিওয়েট নেতা—মদন মিত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়—যেভাবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন, তাতে দলের অন্দরেই…

June 30, 2025
0 min read

মদনকে শো কজ়, কল্যাণ নিস্তার?

কসবা ল কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার পর বিতর্কিত মন্তব্য করে শাসক তৃণমূলের দু’জন হেভিওয়েট নেতা—মদন মিত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়—যেভাবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন, তাতে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে: একজনকে শো কজ় করা হলেও, অন্যজন কেন অধরা থেকে গেলেন?

দলগতভাবে দু’জনের মন্তব্যই নিন্দনীয় বলেও ঘোষণা করা হয়। তবে রবিবার মদনের বিরুদ্ধে দল শো কজ় জারি করে। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠি হোয়াটসঅ্যাপ মারফত পাঠানো হয় মদনের কাছে, তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয় তাঁকে। অথচ একই দিনে কল্যাণ তাঁর বক্তব্যে অনড় থাকেন, দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধেই সাফ বলেন, “হাজার বার বলব!” তবু তাঁকে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হয়নি।

তৃণমূল সূত্র বলছে, মদনের বক্তব্যে নারীবিদ্বেষ এবং নির্যাতিতাকে দায়ী করার স্পষ্ট সুর ছিল—যেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ছাত্রীটি কেন একা কলেজে গেলেন?” যা সরাসরি ধর্ষকের পাশেও দাঁড়ায়। অন্যদিকে, কল্যাণের মন্তব্যকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে “সামাজিক দর্শন” হিসেবে। তিনি বলেন, “যদি রক্ষকই ভক্ষক হন, তবে নিরাপত্তা দেবে কে?” পাশাপাশি, দলীয় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি—“২০১১ সালের পরে কারা এদের আশ্রয় দিলেন?”

তবে এই যুক্তি নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কারণ, একদিকে যেখানে কল্যাণ প্রকাশ্যে দলীয় অবস্থানকেই তাচ্ছিল্য করেন, অন্যদিকে মদন ক্ষমা চেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেন। তা সত্ত্বেও শাস্তি পড়েছে কেবল মদনের কপালে। তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, প্রথম থেকেই দু’জনকে এক পাল্লায় না মেপে আলাদা করে দেখলে বিভ্রান্তি এড়ানো যেত।

এই ‘দ্বৈত’ আচরণ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে থাকবেন কল্যাণ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই তাঁর এই প্রতিনিধি দলে থাকা, এমনটাই ইঙ্গিত তৃণমূলের অন্দর থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মদনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দল যথেষ্ট সতর্ক। শো কজ়ের জবাবের উপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। তবে কালীঘাটের ‘মনোভাব’ অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

এই বিতর্কের আঁচ ছড়ায় আরও একটি প্রসঙ্গে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্সে লেখেন, “নারীবিদ্বেষ কোনও দল দেখে না। কিন্তু তৃণমূল তার বিরুদ্ধে কথা বলে।” এর উত্তরে কল্যাণ মহুয়ার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণে নামেন। তুলে আনেন তাঁর বিয়ের প্রসঙ্গ, বলেন, “আমি নারীবিদ্বেষী? মহুয়া তো এক মহিলার সংসার ভেঙে বিয়ে করেছেন।” এই মন্তব্যে দলের অন্দরেই অস্বস্তির সঞ্চার ঘটেছে।

সব মিলিয়ে ধর্ষণকাণ্ডের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের দুই নেতাকে ঘিরে দলীয় অবস্থান যে এক নয়, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে তৃণমূল আদৌ কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয় কি না।

‘আমার জীবনের চালিকাশক্তি তুমি’ – জন্মদিনে রুক্মিণীকে আদর করে দেব দিয়েছে স্পেশাল শুভেচ্ছা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *