কসবায় রক্তাক্ত ভোর!
কলকাতার Kasba এলাকায় ফের চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। অভিযোগ, নিজের ছোট মেয়ের সামনেই ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন স্বামী। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে পারিবারিক অশান্তি ও টাকার বিবাদের ইঙ্গিত।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার ভোরে, বোসপুকুর এলাকায়। ধৃতের নাম Binod Singh। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি করতেন। নিহত Swapna Singh-ই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তাঁর উপার্জনের টাকাতেই চলত সংসার।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন বিনোদ। ফিরে এসে স্ত্রীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে শুরু হয় তীব্র ঝগড়া। কিছু সময় পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু সেই রাতেই ঘটনার ভয়াবহ মোড়।
ভোরের দিকে ফের বাড়িতে ফিরে আসেন বিনোদ। দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলে তাঁর মেয়েই দরজা খুলে দেয়। সেই সময় ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন স্বপ্না। অভিযোগ, আচমকাই তাঁর উপর হামলা চালান বিনোদ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরপর আঘাত করেন স্ত্রীর পেটে। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। পালানোর চেষ্টা করলেও স্থানীয়রাই তাঁকে ধরে ফেলেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্বপ্নাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। Chittaranjan National Medical College and Hospital-এ ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় Kolkata Police। অভিযুক্তকে আটক করে পরে গ্রেফতার করা হয়। মৃতার ছোট মেয়ের কাছ থেকেই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েনই এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিনোদ নিয়মিত কাজ করতেন না। অন্যদিকে স্বপ্নাই সংসারের দায়িত্ব সামলাতেন। টাকা না পেলেই তিনি স্ত্রীর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি, স্ত্রীর কর্মস্থলেও গিয়ে অশান্তি করতেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। বারবার এই ঘটনার জেরে কাজও হারাতে হয়েছিল স্বপ্নাকে। ফলে সংসারে চাপ আরও বেড়েছিল।
তবে পুলিশ এখনও সব দিক খতিয়ে দেখছে। এই খুনের পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
একটি সাধারণ পারিবারিক বিবাদ যে এত ভয়াবহ পরিণতি নিতে পারে, এই ঘটনা যেন তারই নির্মম উদাহরণ। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— যে শিশুটি নিজের চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখল, তার মানসিক আঘাত কতটা গভীর হবে?
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না