বালি পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের আসনে বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায়
বালিতে দীর্ঘদিন ধরে পুরসভা নির্বাচন হয়নি। শেষবার এই এলাকায় ভোট হয়েছিল ২০১৪ সালে। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভার কাজ চালানো হলেও পরিষেবা ঘাটতির অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছিল। নিকাশি সমস্যা, ভাঙাচোরা রাস্তা ও অস্বচ্ছল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছিল। এমনকি কোথাও কোথাও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতেই বালির বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায়কে মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।
শুক্রবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, নতুন বোর্ড গঠন না হওয়া বা সরকারের তরফ থেকে অন্য কোনও নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাবেন রানা চট্টোপাধ্যায়। শনিবার থেকেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
বালির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। কোথাও নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, কোথাও ভাঙা রাস্তায় চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ না হওয়ায় এলাকাজুড়ে অসুবিধা বাড়ছিল। ফলে পুরসভার বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতাই নয়, মানুষের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রেও রানা চট্টোপাধ্যায়ের সামনে বড়সড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বালির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কার্যকর পরিষেবা নিশ্চিত করা রাজ্যের শাসক দলের ভাবমূর্তির জন্যও জরুরি। তাই মুখ্য প্রশাসকের পদে একজন জনপ্রতিনিধিকে বসিয়ে সরকারের বার্তা স্পষ্ট—জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কোনওরকম গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।
রানা চট্টোপাধ্যায় এখনো এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে স্থানীয়দের আশা, তাঁর নেতৃত্বে পুরসভার কাজকর্মে নতুন গতি আসবে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থার শিকার বালি এবার আধুনিক নগর পরিষেবার স্বাদ পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা বাসিন্দাদের।
বালি পুরসভায় এই পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, রাজনৈতিক কৌশলও বটে। ভোটের আগে এলাকার সমস্যা সমাধানে নজর দেওয়ার মাধ্যমে শাসক দল স্থানীয়দের আস্থা বাড়াতে চাইছে। মুখ্য প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রানা চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম লক্ষ্য হবে রাস্তাঘাট, নিকাশি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত সমস্যার সমাধান এবং পুরসভায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এখন বালির নতুন মুখ্য প্রশাসকের মূল দায়িত্ব। আগামী দিনে তাঁর পদক্ষেপে বদলাবে বালির চিত্র—এমন প্রত্যাশাই করছে সাধারণ মানুষ।