ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রস্তুত রাজ্য, কমিশনে জেলাওয়ারি রিপোর্ট পাঠালেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রস্তুত রাজ্য রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে সবরকম প্রস্তুতি শেষ করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চাহিদা…

August 7, 2025
1 min read

ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রস্তুত রাজ্য

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে সবরকম প্রস্তুতি শেষ করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার কমিশনে পাঠানো হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি জেলার রিপোর্ট। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে SIR প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, বুথ পুনর্বিন্যাস এবং মাঠপর্যায়ের কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য।

গত বুধবার নির্বাচন কমিশন রাজ্যের কাছে জানতে চেয়েছিল, এসআইআর সংক্রান্ত কাজ কতটা এগিয়েছে। তার জবাবেই পরদিন সিইও-র দফতর সব জেলার রিপোর্ট একত্র করে পাঠিয়ে দেয় দিল্লিতে। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এসআইআর চালু করার জন্য রাজ্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার আর কোনও ভোটকেন্দ্রে ১২০০-র বেশি ভোটার থাকবে না। সেই অনুযায়ী রাজ্যের মোট বুথের সংখ্যা ৮০,৬৮০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪,০০০। এই নতুন বুথ বিন্যাস ইতিমধ্যেই সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা তাদের বুথ স্তরের প্রস্তুতি শুরু করতে পারে।

প্রায় দুই দশক পরে আবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার SIR শুরু হচ্ছে। আগেরবার হয়েছিল ২০০২-০৩ সালে। বিহারে এই প্রক্রিয়া সদ্য শেষ হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের অন্যান্য রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও শুরু হচ্ছে এই কাজ। সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গত মাসেই সারা দেশের সব সিইও-কে প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

তাতে বলা হয়েছিল, বুথ লেভেল অফিসার (BLO), তাঁদের সুপারভাইজার এবং বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) নিয়োগের কাজ শেষ করে দ্রুত তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের কার্যকলাপের অগ্রগতি কমিশনে জানাতে হবে। এই নির্দেশ মেনেই রাজ্য সিইও-র দফতর রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

জানা যাচ্ছে, এবার SIR প্রক্রিয়ার সময় জেলা শাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO), অতিরিক্ত ERO এবং BLO-রা একত্রে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করবেন। একটি নির্দিষ্ট ফর্মে সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের তথ্য জমা দিতে হবে। তথ্য যাচাইয়ের পরই তা চূড়ান্ত হবে।

তবে যাঁদের নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় ছিল, তাঁদের আলাদা করে নতুন নথি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। একই নিয়ম প্রযোজ্য তাঁদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও। তবে যাঁদের নাম সেই তালিকায় ছিল না — যেমন নতুন ভোটার বা অন্য রাজ্য থেকে আসা নাগরিক — তাঁদের জন্য অতিরিক্ত নথি এবং পৃথক ফর্ম লাগবে।

এই প্রক্রিয়া অনলাইনে এবং অফলাইনে— দুইভাবে চলবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের প্রতিনিধিরাও পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

রাজ্যের নির্বাচন দফতর জানাচ্ছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি পরিশুদ্ধ, হালনাগাদ এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা যাবে, যা ভবিষ্যতের সব নির্বাচনে সঠিক ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়ক হবে।

দোকানের মশলার বদলে ঘরেই বানিয়ে নিন মাংসের স্বাদ বাড়ানোর জাদুমন্ত্র

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *