এক ছাতার তলায় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আর আলাদা আলাদা পথে নয়—এ বার একজোট হওয়ার সময়। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার মঞ্চ থেকে এমনই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনের উদ্বোধনে তিনি জানালেন, দেশের সব রাজ্য-পুলিশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বাহিনীকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনতে চায় কেন্দ্র।
শাহের বক্তব্য, প্রতিটি রাজ্যে আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করার বদলে যদি একটি সমন্বিত ‘অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড’ (এটিএস) কাঠামো তৈরি করা যায়, তবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, তথ্য ভাগাভাগি এবং তদন্ত—সব কিছুই হবে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর। তাঁর কথায়, “সারা দেশে যদি একই ধরনের এটিএস কাঠামো থাকে, তবে প্রতিটি স্তরে একই মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যাবে।”
কেন এই সমন্বয় জরুরি, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি আজ আর শুধুমাত্র স্থানীয় সমস্যা নয়। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, রাজ্য সীমানা পেরিয়ে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সাহায্য নিচ্ছে। ফলে তদন্তও যদি খণ্ডিত হয়, তবে প্রকৃত বিপদের মূল্যায়ন সম্ভব হয় না। তাঁর মতে, সব তথ্য এক ছাদের নীচে এলে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উপর “৩৬০ ডিগ্রি আক্রমণ” চালানো সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং রাজ্য-পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। কিন্তু সেই প্রযুক্তিগত তথ্য যদি সমন্বিত ভাবে ভাগ করা যায়, তবে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি চিহ্নিত করা আরও সহজ হবে। বিচার প্রক্রিয়াতেও তার সুফল মিলবে। তাই প্রতিটি রাজ্যের পুলিশপ্রধানকে যত দ্রুত সম্ভব এই অভিন্ন কাঠামো বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান তিনি।
শাহ তাঁর বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক সংগঠিত অপরাধ চক্র প্রথমে মুক্তিপণের জন্য কাজ শুরু করলেও পরে সেই অর্থই সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপে ব্যবহার করা হয়। সন্ত্রাসী নেতারা বিদেশে পালিয়ে গেলেও, তাদের আর্থিক ও সাংগঠনিক শিকড় ভেঙে দিতে পারলে হুমকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এই প্রসঙ্গে তিনি পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার কথাও উল্লেখ করেন। শাহের দাবি, ওই ঘটনার তদন্ত আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তান-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, কূটনৈতিক স্তরেও চাপ তৈরি করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, অমিত শাহের বার্তা স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আলাদা আলাদা উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন জাতীয় স্তরে সমন্বিত কাঠামো, যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্র একসঙ্গে কাজ করবে, তথ্য ভাগ করবে এবং একই লক্ষ্য নিয়ে এগোবে। তবেই সন্ত্রাসবাদকে ‘শূন্যে নামানো’ সম্ভব হবে।