ভুয়ো পাসপোর্ট
কলকাতার লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির চক্রের তদন্তে নেমে সোমবার পর্যন্ত পাঁচ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক ভুয়ো পরিচয়পত্র, আধার কার্ড এবং জন্মের শংসাপত্র, যা পাসপোর্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
অভিযুক্তদের তালিকা ও তাদের কার্যকলাপ
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বারাসতের কাজিপাড়ার বাসিন্দা সমরেশ বিশ্বাস এবং তার ছেলে রিপন বিশ্বাস। এ ছাড়া, ডাকঘরের দুই কর্মী তারকনাথ দাস এবং দীপক মণ্ডলকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুয়ো নথি তৈরির অপরাধে পর্ণশ্রী থানা এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর দাসও পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন।
পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বাড়িতে রবিবার এবং সোমবার তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় ভুয়ো আধার কার্ড, জন্মের শংসাপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই নথিগুলি ব্যবহার করে অভিযুক্তেরা হাজার হাজার ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির পরিকল্পনা করেছিল।
ভুয়ো নথি তৈরির সরঞ্জাম ও প্রমাণ উদ্ধার
এর আগেও দীপঙ্কর দাসকে জেরা করে হরিদেবপুর এলাকা থেকে ভুয়ো নথি তৈরির প্রচুর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছিল পুলিশ। নতুন তল্লাশিতে আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রসহ আরও নথি হাতে এসেছে। লালবাজারের গোয়েন্দারা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে বিশাল পরিমাণ ভুয়ো নথি তৈরি করেছিল অভিযুক্তরা।
ভুয়ো পাসপোর্টে বিদেশে যাত্রার অভিযোগ
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, ইতিমধ্যে ভুয়ো পাসপোর্ট ব্যবহার করে প্রায় ৭৩ জন ব্যক্তি বিদেশে পৌঁছে গিয়েছে। পুলিশের তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছে, এই ভুয়ো নথির মাধ্যমে কলকাতায় কয়েক হাজার পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।
এখন পুলিশ সেই ৭৩ জন ব্যক্তির পাসপোর্ট খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদেশি অভিবাসনের বিষয়টি নিয়েও নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
পাসপোর্ট চক্রের নেপথ্যে বৃহৎ চক্রান্ত
গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই চক্রটি শুধু কলকাতা নয়, বরং সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় হতে পারে। ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং নথি তৈরির মাধ্যমে সহজেই বৈধ পাসপোর্টের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের পাসপোর্ট চক্র শুধু দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইতিমধ্যে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।
উপসংহার
ভুয়ো পাসপোর্ট চক্র এবং এর সঙ্গে যুক্ত ভুয়ো নথি তৈরির ঘটনা দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল এই চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনার তদন্ত আরও গভীর হলে পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক চক্রের অনেক গোপন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এই ধরনের চক্র নির্মূল করতে আরও কড়া নজরদারি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।