উত্তরাখণ্ডের স্বল্পচেনা ৩ পর্যটনকেন্দ্র
শীতের সময় প্রকৃতির সাথে মেলামেশা করতে হলে, অনেকেই পাহাড়ের দিকে মনোযোগ দেন। যারা শীতে বরফের সাথে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য উত্তরাখণ্ড একটি আদর্শ জায়গা। তবে যাদের ভিড়ভাট্টা এড়াতে ইচ্ছে, তারা ঘুরে আসতে পারেন উত্তরাখণ্ডের কিছু স্বল্পচেনা পর্যটনকেন্দ্র থেকে। এখানে আপনি পাবেন এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, বরফে ঢাকা পাহাড়, এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
কানাতাল
উত্তরাখণ্ডের মুসৌরির খুব কাছেই অবস্থিত কানাতাল, যেখানে পর্যটকদের ভিড়ের তুলনায় এখানে অনেক বেশি নিরিবিলি পরিবেশ পাওয়া যায়। পাইন বনে ঢাকা এবং তুষারাবৃত পাহাড়ের মধ্যে অবস্থিত এই শৈলশহরটি এখন এক নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে। আপনি এখানে ট্রেকিং এবং হাইকিং উপভোগ করতে পারবেন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কানাতাল পুরোপুরি বরফে ঢাকা হয়ে যায়, যা শীতকালীন ভ্রমণের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
কানাতাল থেকে তেহরি জেলার চম্বা শহর মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে আপনি আরও বেশি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। nearby সুরকান্ডা মন্দির এবং ধানোল্টি সহ নানা দর্শনীয় স্থান রয়েছে। কানাতালে থাকার জন্য হোম স্টে এবং ক্যাম্পিংয়েরও ব্যবস্থা রয়েছে।
হর্ষিল
হর্ষিল উত্তরাখণ্ডের একটি সুন্দর উপত্যকা, যা এখনো অনেকের কাছে অপরিচিত। দেহরাদূন থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জায়গায় বয়ে চলা ভাগীরথী নদী এবং বরফ ঢাকা পাহাড় আপনাকে এক অন্য পৃথিবীতে নিয়ে যাবে। এখানে রয়েছে অনেক ছোট-বড় গ্রাম, যেখানে আপনাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা উপভোগ করার সুযোগ মিলবে।
এখানে বাগোরি গ্রাম বিশেষভাবে পরিচিত, যেখানে কাঠের তৈরি ঘর এবং আপেল বাগান রয়েছে। গ্রামবাসীরা অতিথিপরায়ণ এবং সাদাসিধে জীবনযাপন করেন। হর্ষিল থেকে আপনি গঙ্গোত্রী রেঞ্জের শৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
মুন্সিয়ারি
মুন্সিয়ারি একটি বিখ্যাত শীতকালীন গন্তব্য, যেখানে পঞ্চচুলির বরফে ঢাকা শৃঙ্গের সৌন্দর্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখানে আপনি সূর্যোদয়ের সময় পঞ্চচুলির ওপর সূর্যের আলো পড়তে দেখে এক আশ্চর্য দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। এই জায়গাটি শীতকালীন ট্রেকিংয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
মুন্সিয়ারির কাছেই বিরথি জলপ্রপাত, যেখানে ১২০ মিটার উচ্চতা থেকে জল পড়ে, এবং এটি ভ্রমণকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়াও, নন্দাদেবী, থামকি কুণ্ড, এবং মাদকোট উষ্ণ প্রস্রবণ দেখতে যাওয়ার মতো জায়গা। মুন্সিয়ারিতে থাকার জন্য হোস্টেল এবং হোম স্টে-এর ভালো ব্যবস্থা রয়েছে।
কীভাবে যাবেন?
এই সব স্থানে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর এবং রেলস্টেশনগুলি হল দেহরাদূন এবং নৈনিতাল, যেখান থেকে গাড়ি বা ট্যাক্সি করে পৌঁছানো সম্ভব। ট্রেন এবং বাস পরিষেবাও বেশ সহজলভ্য। শীতকালে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং ভিড় এড়াতে এই জায়গাগুলির মধ্যে কোনও একটি আপনাকে বিশেষ অভিজ্ঞতা দিতে পারে।