দীপিকার আট ঘণ্টার দাবিতে পাশে দাঁড়িয়ে সুনীল শেট্টী!
দীপিকা পাড়ুকোনের আট ঘণ্টার কাজের দাবি ঘিরে বলিউডে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা এখনও থামেনি। মা হওয়ার পর দীপিকা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না। এই সিদ্ধান্তের জেরে সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গার ছবি ‘স্পিরিট’ থেকে তাঁর বাদ পড়াও নতুন করে আলোচনার আগুনে ঘি ঢালে। দীপিকার বক্তব্য ছিল, তাঁর আগে বহু পুরুষ তারকাও একই দাবি করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা পুরুষ বলে সেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়নি। তিনি মহিলা বলেই প্রশ্ন উঠছে।
এ বার এই প্রসঙ্গে নিজের মত জানালেন অভিনেতা সুনীল শেট্টী।
সুনীলের বক্তব্য একেবারেই স্পষ্ট—অমানবিক সময় ধরে কাজ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমি সব সময়ে চেষ্টা করি, যেন কাজের সময়টুকুতেই কাজ করি। ধরুন, শুটিংয়ের সময় যদি সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা হয়, আমি ওই সময়েই কাজ করব। প্রয়োজনে প্রযোজকের সমস্যার কথা ভেবে ৯টা থেকে ৯টাও কাজ করেছি। কিন্তু এই বোঝাপড়াটা দু’দিক থেকেই থাকা দরকার।”
সুনীলের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করলে কাজের মানই নষ্ট হয়। তাঁর কথায়, “আমি জানি, ক্লান্ত শরীরে আমি আমার সেরা অভিনয়টা দিতে পারব না।”
অ্যাকশন নায়ক হিসেবে দীর্ঘ দিন কাজ করা সুনীলের কাছে শরীরই তাঁর সবচেয়ে বড় পুঁজি। তাই সময়মতো খাওয়াদাওয়া, বিশ্রাম আর শরীরচর্চাকে তিনি আপসের জায়গা মনে করেন না। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট সময়ে আমার মধ্যাহ্নভোজ চাই, বিরতি চাই। না হলে আমি খুব বিরক্ত হয়ে যাই। কিন্তু বিরতি নিলেই আবার নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে উঠি। আমাকে দিয়ে ভাল কাজ করাতে হলে, আমাকে সময় দিতে হবে।”
৬৫ বছর বয়সেও তাঁর ফিটনেস অনেক তরুণ অভিনেতাকেও টেক্কা দেয়। এর কারণও ব্যাখ্যা করলেন সুনীল। “আমি নিয়মিত শরীরচর্চা করেছি বলেই আজও সুস্থ। আমার থেকে যদি সেই সময়টা কেড়ে নেওয়া হয়, তা হলে সেটা আমার জীবন কেড়ে নেওয়ার মতোই।”
দীপিকার সিদ্ধান্তকে সরাসরি সমর্থন না করলেও, সুনীলের বক্তব্যে স্পষ্ট—অভিনেতা হোক বা অভিনেত্রী, সুস্থ শরীর আর মানসিক স্বস্তি ছাড়া ভাল কাজ সম্ভব নয়। আর কাজের সময়সীমা নির্দিষ্ট করা মানে কাজ এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং কাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়া।
এই বিতর্ক যেন বলিউডকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—তারকাদের কাজের সময়, বিশ্রাম এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে। দীপিকার আট ঘণ্টার দাবি শুধু এক জন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির কাজের সংস্কৃতি নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
আর সুনীল শেট্টীর মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার মুখে সেই কথার সমর্থন শুনে অনেকেই বলছেন, হয়তো এ বার সত্যিই বদলাতে চলেছে বলিউডের দীর্ঘ শুটিং সংস্কৃতি। কারণ, শেষ পর্যন্ত ভাল সিনেমার জন্য প্রয়োজন শুধু প্রতিভা নয়—প্রয়োজন সুস্থ শরীর আর সতেজ মনও।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা